প্রিন্ট এর তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬
মেরুল বাড্ডায় রাজউকের ১,৬৫০ কোটি টাকার জমি ২১ বছর ধরে দখলে, প্রতারণায় নিঃস্ব ৬ হাজার সদস্য
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় মূল সড়কঘেঁষা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ১১ একর জমি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের দখলে রয়েছে। ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা বাজারমূল্যের রাজউকের নিজস্ব এই সম্পত্তি উদ্ধারে দীর্ঘ ২১ বছর ধরে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রাজউকের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে জমি উদ্ধারের তৎপরতা থমকে থাকার পাশাপাশি আইনি জটিলতাকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নথি অনুযায়ী, ইমপ্রুভমেন্ট অ্যাক্ট-১৯৫৩-এর ৯৩-এ ধারায় ১৯৬২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন ঢাকা ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্ট (ডিআইটি) আবাসিক প্রকল্পের জন্য বাড্ডা মৌজার সিএস দাগে এ জমি অধিগ্রহণ করে। ১৯৬২ সালের ২৫ এপ্রিল ঢাকা জেলা প্রশাসনের এলএ কেস (নং ১৩৮/৬১-৬২)-এর আদেশের মাধ্যমে জমিটির ‘দখল হস্তান্তর সনদ’ ডিআইটির অনুকূলে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। ১৯৮৭ সালে আইন সংশোধনের মাধ্যমে ডিআইটির নাম রাজউক করা হয়।জমিটি দখলে রাখতে ২০০৫ সালে দেলোয়ার হোসেন ব্যাপারী নামে এক ব্যক্তি হাইকোর্টে রিট করেন। একই বছর রাজউকের তৎকালীন ম্যাজিস্ট্রেট রোকন উদ-দৌলা উচ্ছেদ অভিযান চালালে সংক্ষুব্ধরা আরেকটি রিট করেন। পরবর্তীতে ২০০৭ সালে মেরুল কাঁচাবাজার সমিতিও রিট করে। এভাবে ধাপে ধাপে রাজউকের বিরুদ্ধে পাঁচটি রিট মামলা হলেও দীর্ঘ সময়েও সেগুলোর নিষ্পত্তি হয়নি। এই সুযোগে সেখানে মাছ, মুরগি ও বাঁশের বড় বড় আড়ত এবং বস্তি গড়ে উঠেছে।সরজমিনে দেখা যায়, রাজউক জমির মালিকানা দাবি করলেও সেখানে আমমোক্তার হিসেবে মোহাম্মদ শরীফ ভূঁইয়া ও বাবু চন্দ্র দাসের নাম উল্লেখ করে ২৭.৫০ শতাংশ ব্যক্তিমালিকানার একটি সাইনবোর্ড ঝুলছে। অন্যদিকে, জমিটি উদ্ধারে রাজউকের কর্মকর্তাদের স্থবিরতায় হতাশা প্রকাশ করেছেন রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম। তিনি জানান, মামলা পরিচালনার জন্য আইনজীবী থাকলেও বহু কর্মকর্তা কাজ করতে চান না, কারণ কাজ না করলেই তাঁদের ব্যক্তিগত লাভ। এদিকে, রাজউকের আইনি জটিলতাকে কাজে লাগিয়ে ‘মেরুল কাঁচাবাজার দোকানদার সমিতি’ গঠন করে সাধারণ ব্যবসায়ীদের কাছে আধুনিক মার্কেট নির্মাণের মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে দোকান দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। ১ একর ৮৯ শতাংশ জমি বরাদ্দের মিথ্যা সাইনবোর্ড টাঙিয়ে ১৯৮৮ সালে শুরু হওয়া এ সমিতিতে প্রায় ৬ হাজার সদস্য যুক্ত হন। মামলা খরচ, সদস্যপদ হস্তান্তর ও কিস্তির নানা অজুহাতে রসিদের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি।ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও সমিতির সদস্যরা জানান, দীর্ঘ ১৫-২০ বছর ধরে টাকা পরিশোধ করলেও তাঁরা কোনো দোকান পাননি। উল্টো সমিতির তহবিল থেকে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো নিঃস্ব হয়ে পড়া এবং সমিতির কার্যক্রম থমকে থাকায় তাঁরা দোষীদের শাস্তি ও আত্মসাৎকৃত প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ফেরতের জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল