প্রিন্ট এর তারিখ : ০১ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
একই দাগে সরকারি খাস ও ব্যক্তি জমি নিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের নতুন সিদ্ধান্ত
||
একই দাগে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি ও সরকারি খাসজমি পাশাপাশি থাকলে নামজারির সুযোগ নিয়ে সরকারি জমির ওপর স্বত্ব বা দখল প্রতিষ্ঠার দিন শেষ হচ্ছে। এখন থেকে সুনির্দিষ্ট সীমানা চিহ্নিত করে কেবল ব্যক্তিমালিকানাধীন অংশেরই নামজারি অনুমোদন করা যাবে। নামজারি হলেও খাসজমিতে আবেদনকারীর কোনো ধরনের মালিকানা, স্বত্ব কিংবা আইনগত অধিকার তৈরি হবে না। সরকারি জমি গ্রাস ও ভুয়া রেকর্ডজনিত জালিয়াতি প্রতিরোধে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশ দিয়ে সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি বিশেষ পরিপত্র জারি করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। গত ২৮ সেপ্টেম্বর ভূমি মন্ত্রণালয়ের আইন-৩ শাখা থেকে জারি করা এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো দাগের আংশিক ভূমি ব্যক্তিমালিকানাধীন এবং আংশিক খাস বা সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট হলে পুরো দাগের ওপর নামজারি আবেদন গ্রহণ, অনুমোদন কিংবা ভূমি উন্নয়ন কর আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি। যেকোনো জালিয়াতি এড়াতে সহকারী কমিশনারদের (ভূমি) সরেজমিন তদন্ত সাপেক্ষে সরকারি ও ব্যক্তিগত জমি আলাদাভাবে চিহ্নিত করার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে।পরিপত্র অনুযায়ী, নামজারির আবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলোতে সাবেক ও হাল রেকর্ড, দাগসূচি, মৌজা ম্যাপ, মালিকানার ধারাবাহিকতা এবং জমির মূল দলিলপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করতে হবে। এরপর কানুনগো বা সার্ভেয়ারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর উপস্থিতিতে সরেজমিন পরিমাপ শেষে যৌথ স্বাক্ষরিত একটি খসড়া নকশা প্রস্তুত করতে হবে। এই খসড়া নকশা এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই কেবল ব্যক্তিমালিকানাধীন অংশের নামজারি ও ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন সহকারী কমিশনার (ভূমি)। ভূমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের জটিলতা, মামলা-মোকদ্দমা ও সরকারি জমি জবরদখল ঠেকানোই এই নতুন নির্দেশনার মূল উদ্দেশ্য। নতুন এই ব্যবস্থার ফলে সঠিক কাগজপত্র থাকা প্রকৃত জমির মালিকরা তাদের অংশের নামজারি সহজেই করতে পারবেন, অন্যদিকে কেবল দাগ নম্বরের সুযোগ নিয়ে ভুয়া কাগজের মাধ্যমে সরকারি সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার পথ চিরতরে বন্ধ হবে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল