প্রিন্ট এর তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নারীদের বিষণ্ণতায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি দ্বিগুণ: কারণ কেবল মন খারাপ নয়, জিন ও হরমোন
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
বিষণ্ণতা বা ডিপ্রেশন কেবল সাময়িক মন খারাপের বিষয় নয়; এটি মানুষের কর্মক্ষমতা, দৈনন্দিন জীবন ও সামাজিক সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাবিত করা একটি জটিল মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা। সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ ও গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষদের তুলনায় নারীদের মধ্যে বিষণ্ণতায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বৈচিত্র্যময় জৈবিক ও সামাজিক কারণে দ্বিগুণের কাছাকাছি। চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, বিষণ্ণতার পেছনে কেবল পরিবেশগত চাপ নয়, বরং নারীদের উচ্চ জেনেটিক সংবেদনশীলতা ও জীবনের বিভিন্ন ধাপে হরমোনের দ্রুত ওঠানামা মুখ্য ভূমিকা পালন করে।গবেষণায় উঠে এসেছে, মানুষের মস্তিষ্কে আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী নিউরোট্রান্সমিটার—যেমন সেরোটোনিন ও ডোপামিনের স্বাভাবিক ক্রিয়া ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের পরিবর্তনের কারণে প্রভাবিত হয়। জেনেটিক প্রবণতা থাকলে এই কেমিক্যাল ভারসাম্যহীনতার প্রভাব আরও ঘনীভূত হয়।জীবনের নির্দিষ্ট ঝুঁকির সময়কাল: কৈশোর বা বয়ঃসন্ধিকাল, গর্ভাবস্থা, সন্তান জন্মের পরবর্তী সময় (পোস্টপার্টম) এবং প্রাক-মেনোপজ বা মেনোপজ পরবর্তী সময়ে হরমোনের তীব্র পরিবর্তনের কারণে মানসিক অস্থিরতা বহুগুণ বাড়ে।দ্বৈত ভূমিকা ও সামাজিক চাপ: পরিবার ও কর্মক্ষেত্রের দ্বৈত দায়িত্ব পালন, পারিবারিক সহিংসতার শিকার হওয়া, আর্থিক অনিশ্চয়তা এবং সামাজিক বৈষম্য নারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ তৈরি করে।চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে মেজাজ অতিরিক্ত বিষণ্ণ থাকা, স্বাভাবিক কাজে আগ্রহ হারিয়ে ফেলা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, ঘুম বা ক্ষুধার অস্বাভাবিক পরিবর্তন, নিজেদের মূল্যহীন ভাবা এবং মনোযোগের ঘাটতি দেখা দিলে একে সাধারণ অবহেলা না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সঠিক সময়ে চিকিৎসার আওতায় আনা, পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়ামের পাশাপাশি পারিবারিক সহানুভূতি নারীদের বিষণ্ণতা কাটিয়ে উঠে সুস্থ জীবনে ফিরতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল