প্রিন্ট এর তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্থানীয় নির্বাচনে নিষিদ্ধ পোস্টার, ডিজিটাল প্রচারে নেই বাধা
সুমাইয়া জাবির , ন্যাশনাল ডেস্ক এডিটর ||
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও জেলা পরিষদের জন্য প্রায় অভিন্ন আচরণবিধির গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। চলতি বছরের শেষ ভাগে স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমদের স্বাক্ষরে এই নতুন বিধিমালা জারি করা হয়। নতুন এই নীতিমালায় নির্বাচনী প্রচারণায় দৃশ্যমান ও গুণগত পরিবর্তনের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে।নতুন আচরণবিধির সবচেয়ে বড় চমক হলো নির্বাচনী প্রচারণায় সব ধরনের পোস্টার ব্যবহারের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা। তবে প্রার্থীরা নির্ধারিত পরিমাপ মেনে ব্যানার, লিফলেট, ফেস্টুন ও সীমিত সংখ্যক বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন। বিধিমালার স্পষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যানারের সর্বোচ্চ আকার হবে ১০ ফুট বাই ৪ ফুট, লিফলেট এ-ফোর আকারের, ফেস্টুন ১৮ ইঞ্চি বাই ২৪ ইঞ্চি এবং বিলবোর্ডের প্রচার অংশ ১৬ ফুট বাই ৯ ফুটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। প্রচারণার সকল সামগ্রী হতে হবে সাদাকালো এবং এতে কোনোভাবেই পলিথিন বা পিভিসির আবরণ ব্যবহার করা যাবে না। প্রতিটি প্রচারণাসামগ্রীতে মুদ্রণের তারিখ থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনী প্রতীকের আকার কোনোভাবেই ছয় ফুটের বেশি হতে পারবে না এবং প্রচারণায় জীবন্ত প্রাণীর ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।শব্দদূষণ রোধে মাইক ও ভ্রাম্যমাণ বাহন বা ক্যারাভান ব্যবহারের সময়সীমা দুপুর ১২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রার্থীরা একটির বেশি মাইক ব্যবহার করতে পারবেন না। তবে জেলা পরিষদ নির্বাচনে মাইক ব্যবহারের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। নির্বাচনী ক্যাম্প স্থাপনের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। যেমন, উপজেলা নির্বাচনে একজন প্রার্থী কেন্দ্রীয়ভাবে একটি, প্রতি ইউনিয়নে একটি এবং পৌরসভা এলাকায় প্রতি তিন ওয়ার্ডে একটির বেশি নির্বাচনী ক্যাম্প স্থাপন করতে পারবেন না।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণার সুযোগ রাখা হলেও এর ব্যয়কে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবে দেখানো বাধ্যতামূলক করেছে কমিশন। ডিজিটাল প্রচারণায় শৃঙ্খলা ফেরাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিকৃত ছবি, ভুয়া তথ্য বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ছড়ানো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে তাঁদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর কিংবা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) নম্বর সংগ্রহ করাকে নির্বাচনী অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বিধান যুক্ত করা হয়েছে।নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত রাখতে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ ব্যক্তিদের প্রচারণায় অংশগ্রহণের ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে সিটি মেয়র বা স্থানীয় সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসকেরা কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না। এসব আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে প্রার্থীদের সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।বিলবোর্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রতিটি স্তরের জন্য আলাদা সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থীরা প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে বিলবোর্ড স্থাপন করতে পারবেন। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতি ইউনিয়ন বা পৌর ওয়ার্ডে একটি করে সর্বোচ্চ ২০টি এবং জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতি থানা বা উপজেলায় একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল