প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংকটে বৈদেশিক কর্মসংস্থান, কমছে কর্মী গমন বাড়ছে পাচারের ঝুঁকি
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাত বর্তমানে এক গভীর সংকটের মুখোমুখি। ঐতিহ্যবাহী মধ্যপ্রাচ্যের বাজারগুলো সংকুচিত হয়ে পড়া, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ থাকা এবং নতুন গন্তব্যের নামে রাশিয়া কিংবা কম্বোডিয়ার মতো দেশগুলোতে গিয়ে প্রবাসী কর্মীদের ভয়াবহ প্রতারণা ও পাচারের শিকার হওয়া এই সংকটকে তীব্র করে তুলেছে। এর ওপর জীবন ঝুঁকি নিয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার প্রবণতা দেশীয় অভিবাসন ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই প্রকাশ্যে এনেছে।জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে (জানুয়ারি-আগস্ট) বিদেশে যাওয়ার জন্য ছাড়পত্র নিয়েছেন প্রায় ৫ লাখ কর্মী, যা পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের (৭ লাখ ৪০ হাজার) তুলনায় অন্তত ১ লাখ ৪০ হাজার কম। সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কাতার, বাহরাইন ও মালয়েশিয়ার মতো ঐতিহ্যবাহী বড় শ্রমবাজারগুলোতে কর্মী গমন আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। এমনকি বর্তমানে সবচেয়ে বেশি কর্মী যাওয়া সৌদি আরবেও কাজের নিশ্চয়তা না পাওয়ার অভিযোগ দিন দিন বাড়ছে। এ অবস্থায় কম্বোডিয়ায় নিয়ে প্রতারণামূলক অনলাইন 'স্ক্যাম সেন্টারে' নিয়োজিত করা কিংবা বাবুর্চির কাজের কথা বলে রাশিয়ায় নিয়ে সরাসরি ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে ঠেলে দেওয়ার মতো মানব পাচারের ঘটনা ঘটছে।খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশে অতিরিক্ত লাইসেন্সপ্রাপ্ত রিক্রুটিং এজেন্সির কারণে সঠিক তদারকির অভাব তৈরি হয়েছে। বর্তমানে দেশে ২,৬৪৬টি রিক্রুটিং এজেন্সি রয়েছে, যা প্রতিবেশি দেশগুলোর তুলনায় বহুগুণ বেশি। সাম্প্রতিক সময়ে অনিয়মের দায়ে ৪৯টি এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করা হলেও অভিবাসন ব্যবস্থার ওপর কঠোর নজরদারির অভাব স্পষ্ট। এ ছাড়া গত পাঁচ বছরে মানব পাচার প্রতিরোধ আইনে হওয়া হাজার হাজার মামলার মধ্যে ৯০ শতাংশেরও বেশি আসামি খালাস পেয়ে যাওয়া পাচারকারীদের অপরাধপ্রবণতা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।সরকারের ঘোষিত নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক জানিয়েছেন, বন্ধ থাকা ঐতিহ্যবাহী শ্রমবাজারগুলো পুনরায় চালুর পাশাপাশি নতুন ও নিরাপদ বাজারে কর্মী পাঠানোর জন্য সরকারের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে অভিবাসন খাত বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু প্রতিশ্রুতি বা ছাড়পত্র নয়, বিদেশে যাওয়ার পূর্বে কাজের নিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং অনিয়মিত অভিবাসন বন্ধে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ভুক্তভোগী কর্মীদের অনিশ্চয়তা ও দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহের ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পাবে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল