প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জিওব্যাগেও রক্ষা নেই, ভয়াবহ ভাঙনে হুমকিতে কক্সবাজার সৈকত
ইয়াসরির মাহবুব, স্টাফ রিপোর্টার ||
বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে ভাঙন। যেখানে একসময় ছিল বিস্তীর্ণ বালুচর, পর্যটকদের কোলাহল আর সারি সারি ঝাউগাছ, সেখানে এখন ক্রমান্বয়ে আছড়ে পড়ছে সাগরের হিংস্র ঢেউ। উত্তাল তরঙ্গের আঘাতে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা বালিয়াড়ি বিলীন হয়ে প্রতিদিন বদলাচ্ছে সৈকতের চেনা মানচিত্র। ভাঙন ঠেকানোর উদ্দেশ্যে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার প্লাস্টিকের জিওব্যাগ বসানো হলেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত কোনো ফল। এতে বিশ্বমানের এই সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিনাশের পাশাপাশি পর্যটননির্ভর স্থানীয় অর্থনীতি ও হাজারো মানুষের জীবিকা চরম ঝুঁকিতে পড়েছে।সৈকতে দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে ব্যবসা পরিচালনা করা মফিজুর রহমানের মতো স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে এই ধ্বংসচিত্র। তাঁদের চোখের সামনেই বিগত কয়েক বছরে সমুদ্রের পেটে চলে গেছে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ ফুট দীর্ঘ বালুচর। সাময়িক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বস্তা ফেলা হলেও তীব্র ঢেউয়ের আঘাতে সেগুলো অতি দ্রুত ছিঁড়ে বা সরে যাচ্ছে। আবার অনেক জায়গায় জিওব্যাগের তলদেশ থেকে বালু ধুয়ে গিয়ে ফাঁকা স্থানের সৃষ্টি হচ্ছে, যা উল্টো ত্বরান্বিত করছে ভূখণ্ড ভাঙনের তীব্রতাকে। ফলে প্রতি বছর জিওব্যাগের পেছনে লাখ লাখ টাকার সরকারি ব্যয়কে কার্যকারিতাহীন অপচয় হিসেবে দেখছেন ভুক্তভোগী স্থানীয়রা।সমুদ্রবিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের সাথে সাথে অপরিকল্পিত পর্যটন পরিকাঠামো নির্মাণ এবং ঢেউয়ের বিরুদ্ধে সৈকতের প্রধান প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেই প্রাচীন বালিয়াড়ি ধ্বংস করাই ভাঙন তীব্র হওয়ার মূল কারণ। সমুদ্রবিজ্ঞানী আবদুল কাইয়ুম জানান, কৃত্রিম জিওব্যাগের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশল গ্রহণ করতে হবে। বাহ্যিক উৎস থেকে বালু এনে ক্ষয়প্রাপ্ত স্থান ভরাট করা এবং সেখানে প্রাকৃতিকভাবে বালু ধরে রাখার উপযোগী নিশি, কেয়া গাছ ও আইপোমিয়া লতাজাতীয় সাগরলতা রোপণ করে সৈকত পুনর্গঠনের পরামর্শ দেন তিনি।ভাঙনের মারাত্মক প্রভাব স্বীকার করে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানিয়েছেন, সৈকতের অতি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে একটি স্থায়ী ও সুপরিকল্পিত প্রকল্পের 'ডিআইপি' (ডিপিপি) প্রণয়নের কাজ বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি চূড়ান্ত বাজেট ও অনুমোদন পেলে স্থায়ী অবকাঠামোগত কাজ শুরু করা সম্ভব হবে; তবে বর্তমানে অতি জরুরি স্থানগুলোতে সাময়িক সমাধান হিসেবে ফান্ডের অধীনে জিওব্যাগ ব্যবহারের কাজ চলছে। সৈকতের অস্তিত্ব ও স্থানীয় অর্থনীতি বাঁচাতে অবিলম্বে এই সাময়িক চেষ্টার বদলে বাস্তবসম্মত স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও পর্যটন খাতের অংশীদারেরা।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল