প্রিন্ট এর তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নবম পে-স্কেলে বেতন-ভাতার নতুন হিসাব, কোন গ্রেডে কত বাড়ল
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুমোদনের মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত বেতন ও ভাতার নতুন হিসাব চূড়ান্ত হয়েছে। সরকারের অনুমোদিত নতুন পে-স্কেলে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখেই সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ১ম গ্রেডের মূল বেতন ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন কাঠামোতে উচ্চ গ্রেডের তুলনায় নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মচারীদের অধিক প্রাধান্য দিয়ে বৈষম্য কমিয়ে আনা হয়েছে।নতুন বেতন কাঠামোতে ১ম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা, ২য় গ্রেডে ৬৬ হাজার থেকে ১ লাখ ৩২ হাজার, ৩য় গ্রেডে ৫৬ হাজার ৫০০ থেকে ১ লাখ ১৩ হাজার, ৪র্থ গ্রেডে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ, ৫ম গ্রেডে ৪৩ হাজার থেকে ৮৬ হাজার, ৬ষ্ঠ গ্রেডে ৩৫ হাজার ৫০০ থেকে ৭১ হাজার, ৭ম গ্রেডে ২৯ হাজার থেকে ৫৮ হাজার, ৮ম গ্রেডে ২৩ হাজার থেকে ৪৬ হাজার এবং ৯ম গ্রেডে ২২ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৪৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।অপরদিকে ১০ম ও ১১তম গ্রেডের মূল বেতন ১০০ শতাংশ বাড়িয়ে যথাক্রমে ৩২ হাজার ও ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। এরপরের গ্রেডগুলোতে বৃদ্ধির হার আরও বেশি—১২তম গ্রেডে প্রায় ১১৫ শতাংশ বৃদ্ধিতে ২৪ হাজার ৩০০ টাকা, ১৩তম ও ১৪তম গ্রেডে ১২৮ থেকে ১৩০ শতাংশ বৃদ্ধিতে ২৪ হাজার টাকা, ১৫তম ও ১৬তম গ্রেডে ১৩৫ শতাংশ বৃদ্ধিতে যথাক্রমে ২৩ হাজার ৫০০ ও ২১ হাজার ৯০০ টাকা, ১৭তম ও ১৮তম গ্রেডে ১৩৮ থেকে ১৩৯ শতাংশ বৃদ্ধিতে যথাক্রমে ২১ হাজার ৪০০ ও ২১ হাজার টাকা, ১৯তম গ্রেডে ১৪১ শতাংশ বৃদ্ধিতে ২০ হাজার ৫০০ টাকা এবং ২০তম গ্রেডে ১৪২ শতাংশ বৃদ্ধিতে মূল বেতন নির্ধারিত হয়েছে ২০ হাজার টাকা।পে-স্কেলটির মেয়াদ ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকরের কথা বলা হলেও পুরো বর্ধিত মূল বেতন একবারে হাতে পাবেন না চাকরিজীবীরা; ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ৩টি ধাপে এই মূল বেতন প্রদান করা হবে। এ ছাড়া চিকিৎসা ও বাড়িভাড়াসহ সব ধরনের ভাতা ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে একযোগে কার্যকর হবে। এ কাঠামোর আওতায় ২৪ লাখ কর্মরত ও সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত মিলিয়ে প্রায় ৩৩ লাখ সুবিধাভোগী সরাসরি লাভবান হবেন, যা বাস্তবায়নে বছরে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা।অবসরভোগীদের নিট পেনশনেও বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হয়েছে। মাসিক ৯ হাজার টাকা বা তার কম নিট পেনশনভোগীদের পেনশন ১০০ শতাংশ এবং ক্রমান্বয়ে উচ্চ স্ল্যাবের পেনশনে ৫৫ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই সাথে অসামরিক ও সামরিক উভয় খাতে ২০৩০ সালের মধ্যে পুরোপুরি 'এক গ্রেড এক পেনশন' (ওআরওপি) বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। পাশাপাশি ডিজিটাল যোগাযোগ সুবিধার অংশ হিসেবে ৫ম গ্রেডের পরিবর্তে এবার ১ম থেকে ২০তম—সব গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের জন্য 'মোবাইল ভাতা' এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রতি সন্তাদের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা করে 'প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা' চালু করা হচ্ছে। একই সাথে জুডিশিয়াল সার্ভিসের জন্য পৃথক কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী আলাদা বেতন স্কেল অনুমোদন দিয়ে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ নতুন এই বেতন কাঠামোকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেছেন, এটি সরকারি কর্মচারীদের সুরক্ষা দিলেও বেসরকারি খাতে এক ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে, তাই বেসরকারি খাত ও সংবাদমাধ্যমেও দ্রুত বেতন সমন্বয় প্রয়োজন। অন্যদিকে অর্থমন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাজারে অতিরিক্ত মূল্যস্ফীতি প্রতিরোধ এবং সরকারি কোষাগারের সক্ষমতা রক্ষার্থেই পুরো পে-স্কেল একযোগে চালু না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করার এই রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল