প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬
হরমুজ খুললে ইরানের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের
শামিমা লিয়া, আন্তর্জাতিক ডেস্ক এডিটর ||
বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর সামরিক আক্রমণ বন্ধের বিনিময়ে ইরানের ওপর থেকে যাবতীয় মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও নতুন ঘোষিত অর্থনৈতিক অবরোধ প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম আল আরাবিয়ার বরাতে দৈনিক ইত্তেফাকের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও প্রতিরক্ষা প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির সম্প্রতি তেহরান সফরে গিয়ে ওয়াশিংটনের এই শর্তসাপেক্ষ প্রস্তাব ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেন।যুক্তরাষ্ট্রের মূল শর্ত হলো, বিশ্ব বাজারের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল পরিবহনের প্রধান মাধ্যম হরমুজ প্রণালীতে অবাধ নৌযান চলাচল নিশ্চিত করতে হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সক্রিয় ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর সব ধরনের হামলা ও সামরিক তৎপরতা বন্ধ করতে হবে। এর বিনিময়ে ওয়াশিংটন গত ২৪ আগস্ট মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ থেকে ঘোষিত ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ স্থগিত বা প্রত্যাহার করবে এবং ইরানি সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার পাশাপাশি ইরানের ওপর থাকা যাবতীয় দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা বাতিল করবে। মূলত গত জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি (MoU) পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যেই পাকিস্তানি সেনাপ্রধান ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মহসেন রেজাইয়ের সাথে এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠক পরিচালনা করেন।তবে ওয়াশিংটনের প্রস্তাবিত এই ছাড়ের বিপরীতে তেহরান তাদের পূর্বের কঠোর অবস্থানেই অনড় রয়েছে। মার্কিন প্রস্তাবের বিপরীতে তেহরান শর্ত দিয়েছে যে, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে ৩০০ বিলিয়ন ডলার প্রদান করতে হবে। একই সাথে আন্তর্জাতিক ব্যাংকে অবরুদ্ধ থাকা ১০০ থেকে ১২৩ বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ মুক্ত করা, সমস্ত নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং গাজা ও লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে সার্বিক যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন করতে হবে। ইরানি কর্মকর্তা মহসেন রেজাই জানিয়েছেন, মার্কিন প্রস্তাবটি নিয়ে তেহরান তাদের নিজস্ব উচ্চপর্যায়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখবে।এর আগে গত ২৪ আগস্ট মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ কর্মসূচির আওতায় ইরানের অর্থনৈতিক ভিত্তি স্তব্ধ করতে নতুন করে কঠোর দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। যদিও চীন ইতোমধ্যেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের একতরফা নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা ইরানের সাথে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সম্পর্ক থেকে সরে আসবে না। হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থা সমাধান এবং উভয় দেশের বিশাল শর্তগত ব্যবধানের কারণে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দীর্ঘস্থায়ী সমঝোতার পথ এখনো বেশ জটিল ও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল