প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬
ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মানতে বাধ্য নয় পাকিস্তান
শামিমা লিয়া, আন্তর্জাতিক ডেস্ক এডিটর ||
যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত ইরানের ওপর একতরফা নিষেধাজ্ঞাকে আন্তর্জাতিক আইনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে আখ্যা দিয়ে তা মানতে পাকিস্তান বাধ্য নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইসলামাবাদ। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) এক সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহের আন্দ্রাবি আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান।পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র তাহের আন্দ্রাবি বলেন, "ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের একতরফা নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক আইন সমর্থিত নয়। ফলে পাকিস্তান এই নিষেধাজ্ঞা প্রতিপালনে কোনো বাধ্যবাধকতা অনুভব করে না।" আন্তর্জাতিক যেকোনো বিরোধ বা রাজনৈতিক মতপার্থক্য নিরসনে একতরফা অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশল প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা বা বলপ্রয়োগের বদলে সংলাপ ও প্রাতিষ্ঠানিক কূটনীতিই হলো যেকোনো সংকট সমাধানের একমাত্র টেকসই পথ।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন তেহরানের ওপর সর্বাত্মক অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে ছাড় আদায়ে নতুন করে যে কৌশল গ্রহণ করেছে, তার ধারাবাহিকতায় গত সোমবার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের একাধিক প্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক নেটওয়ার্কের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেন। এর পরপরই প্রতিবেশী দেশ হিসেবে পাকিস্তানের এমন স্পষ্ট বক্তব্য আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা।দীর্ঘ সীমান্ত, বাণিজ্যিক স্বার্থ এবং কৌশলগত জ্বালানি সহযোগিতার কারণে ইরানের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা ইসলামাবাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। ফলে ওয়াশিংটনের সাথে নিজেদের বহুমাত্রিক কূটনৈতিক সম্পর্ক টিকিয়ে রেখে ইরানের সাথে প্রতিবেশিসুলভ সুসম্পর্ক ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য অব্যাহত রাখতে পাকিস্তান একটি সূক্ষ্ম কূটনৈতিক ভারসাম্যের নীতি অনুসরণ করছে। তবে মার্কিন এ নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পাকিস্তান-ইরান সীমান্ত বাণিজ্য ও যৌথ অর্থনৈতিক প্রকল্পে কতটা পড়বে, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল