প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসে ভয়াবহ বন্যা: নিখোঁজ প্রায় দেড় হাজার, নিহত ছাড়াতে পারে ১৬৫
শামিমা লিয়া, আন্তর্জাতিক ডেস্ক এডিটর ||
নেপাল এবং চীনের তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের পাহাড়ি সীমান্তে বরফ ধসে ও কাদার ধ্বংসাত্মক আকস্মিক বন্যায় (Flash Flood) দুই দেশ মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা ১৬০ ছাড়িয়ে গেছে। কাদা ও পানির প্রবল তোড়ে শত শত ঘরবাড়ি, সেতু এবং সীমান্ত জনপদ ভেসে যাওয়ায় নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ১,৫০০ মানুষ। দুর্গম উদ্ধার অভিযান চলায় হতাহতের সংখ্যা আরও বহুগুণ বাড়ার আশঙ্কা ব্যক্ত করেছে দুই দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।হিমালয়ের লেন্দে নদী ও ভোট কোশি নদীর অববাহিকায় সৃষ্ট এই দুর্যোগে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে উত্তর নেপালের রসুয়া ও চীনের গিয়িরং কাউন্টি। আকস্মিক ধস ও বন্যার মুহূর্তে পানির গতি এতটাই তীব্র ছিল যে মানুষ নিরাপদে সরে যাওয়ার সামান্য সময়টুকুও পাননি। নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ৮০০ জন বিদেশি নাগরিক ও পর্যটক রয়েছেন, যাদের একটি বড় অংশ পবিত্র কৈলাশ মানসরোবর অভিমুখে তীর্থযাত্রায় যাচ্ছিলেন। নিখোঁজদের মধ্যে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকরা রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট দেশের পররাষ্ট্র দপ্তরগুলো নিশ্চিত করেছে।প্রাথমিকভাবে ৪.৪ মাত্রার একটি ভূকম্পন অনুভব করা গেলেও মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) পরবর্তীতে জানায়, এটি প্রকৃতপক্ষে কোনো সাধারণ ভূমিকম্প ছিল না। অতি-উচ্চতা থেকে বিশাল আকারের হিমবাহ ধসে পাথর ও বরফের মিশ্রণে পাহাড়ের গায়ে যে প্রচণ্ড ঘাত তৈরি হয়েছিল, তা থেকেই ভূকম্পনীয় তরঙ্গ ও এই ভয়াল কর্দমপ্রবাহের উৎপত্তি হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অস্থিতিশীল হয়ে ওঠা হিমালয়ান হিমবাহ ব্যবস্থা এখন পুরো দক্ষিণ এশিয়ার পানি অববাহিকা ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জন্য স্থায়ী আশঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।দুর্ঘটনাকবলিত প্রত্যন্ত পার্বত্য এলাকায় নেপাল ও চীনের সশস্ত্র বাহিনীর ৫ হাজারের বেশি সদস্য হেলিকপ্টার ও ড্রোন নিয়ে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। নদীর পানির প্রবল গতি ও প্রধান সড়কগুলো ধসে পড়ায় রসুয়া ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, ফলে হেলিকপ্টারই এখন জরুরি সাহায্য পৌঁছানোর একমাত্র মাধ্যম। এ পর্যন্ত বেশ কিছু আহতকে উদ্ধার করে কাঠমান্ডু ও লাসার সামরিক ট্রমা সেন্টারগুলোতে ভর্তি করা হয়েছে।এই মানবিক বিপর্যয় মোকাবিলায় দ্রুত সাড়া দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। জাতিসংঘ ক্ষতিগ্রস্ত জনপদের জন্য জরুরি ত্রাণ ও রসদ পাঠাতে শুরু করেছে। প্রতিবেশী ভারতের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও চীন জরুরি অর্থ সহায়তা ও খাদ্য-তাঁবুর মতো সাহায্যসামগ্রী পাঠিয়েছে। ভারত ও নেপালের নিম্নাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতে নদীর পানি হু-হু করে বাড়তে থাকায় পরবর্তী বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নদী অববাহিকার আশেপাশের বাসিন্দাদের নিরাপদে সরে যেতে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল