প্রিন্ট এর তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬
আসাদ অনুগতদের জন্য আর নিরাপদ নয় লেবানন
শামিমা লিয়া, আন্তর্জাতিক ডেস্ক এডিটর ||
সিরিয়ার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতনের পর লেবাননে আশ্রয় নেওয়া তার শাসনের কর্মকর্তারা এখন আর সেখানে নিরাপদ নন। সম্প্রতি এক প্রাক্তন মেজর জেনারেলকে গ্রেপ্তার ও প্রত্যর্পণের ঘটনা প্রমাণ করছে, লেবানন আর প্রাক্তন এই কর্মকর্তাদের জন্য আশ্রয়স্থল হিসেবে থাকছে না।২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দামেস্কের পতনের পর আসাদ ও তার ভাই মস্কোতে পালিয়ে গেলে অনেক শীর্ষ কর্মকর্তা ও সামরিক কমান্ডার নিজেদের গন্তব্য ঠিক করতে বাধ্য হন। তাদের অনেকে লেবাননে আশ্রয় নেন এবং কেউ কেউ বৈরুতের মতো শহরে প্রকাশ্যে দেখা গেছেন। তবে এখন পরিস্থিতি বদলেছে। সিরিয়ার বিচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বিচারক মোস্তফা আল-কাসেম বলেছেন, প্রাক্তন শাসন সদস্যদের বিচারের আওতায় আনতে ও প্রত্যর্পণ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক আইনি সহযোগিতা জোরদার করা হচ্ছে।সম্প্রতি সিরিয়ার দূতাবাসের তথ্যের ভিত্তিতে লেবাননে গ্রেপ্তার হয়েছেন প্রাক্তন মেজর জেনারেল আদেল ইসা। লেবাননের এক শীর্ষ প্রসিকিউটর ঘোষণা করেছেন, সামরিক চাকরিকালে কৃত অপরাধের জন্য তাকে সিরিয়ায় প্রত্যর্পণ করা হবে। এই ঘটনার মধ্য দিয়েই স্পষ্ট হয়ে গেছে, লেবানন আর আগের মতো প্রাক্তন আসাদ অনুগতদের আশ্রয় দিতে রাজি নয়। গত সপ্তাহে দামেস্কের এক আদালত আসাদ, তার ভাই মাহের ও চাচাতো ভাই আতেফ নজিবকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। আসাদ ও মাহের রাশিয়ায় নির্বাসনে থাকায় তাদের অনুপস্থিতিতে এই রায় দেওয়া হয়।প্রাক্তন শাসনের শীর্ষ ব্যক্তিরা, যেমন আসাদ বা প্রাক্তন জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান আলি মামলুক, মস্কো বা সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থান করছেন। তবে বিমানবাহিনী গোয়েন্দা অধিদপ্তরের প্রাক্তন প্রধান জামিল আল-হাসান এবং প্রাক্তন রিপাবলিকান গার্ড কমান্ডার বাসসাম আল-হাসান লেবাননে রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্রগুলো জানিয়েছে, বেশিরভাগ প্রাক্তন কর্মকর্তা এখন ত্রিপোলির জাবাল মুহসেন বা আক্কারের উত্তরাঞ্চলে অবস্থান করছেন। প্রাক্তন কর্মকর্তাদের সঠিক সংখ্যা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া কঠিন, কারণ তাদের অনেকেই তৃতীয় দেশে চলে গেছেন বা ভুয়া পাসপোর্ট ব্যবহার করে সিরিয়ায় ফিরে গেছেন।হিজবুল্লাহ একসময় আসাদ শাসনের পাশে লড়াই করলেও সম্প্রতি তারা লেবাননের বেকা উপত্যকায় প্রাক্তন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ শিবির বন্ধ করে দিয়েছে এবং দামেস্কের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকের ইঙ্গিত দিয়েছে। ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহ এখন নিরস্ত্রীকরণের চাপে রয়েছে এবং সিরিয়ার সীমান্তে নতুন সংঘাতের চেয়ে দামেস্কের সঙ্গে শান্তি বজায় রাখাই তাদের জন্য বেশি জরুরি। সিরিয়ার প্রতি মার্কিন চাপ থাকলেও বিশ্লেষকরা মনে করেন, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সরাসরি পদক্ষেপ আঞ্চলিক অস্থিরতা ডেকে আনতে পারে এবং সিরিয়ার নতুন সরকারের কর্তৃত্বকে দুর্বল করবে।লেবানন সম্প্রতি মৃত্যুদণ্ড বিলুপ্ত করেছে, যা সিরিয়ায় প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলেছে। লেবানিজ সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ওয়াদিহ আল-আসমার বলেছেন, লেবাননের নিজস্ব আইন অনুযায়ী কাউকে এমন দেশে ফেরত পাঠানো যাবে না যেখানে তার মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দামেস্কের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ইচ্ছা মানবাধিকার উদ্বেগের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। সিরিয়ার প্রতি যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ ও মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্যও প্রত্যর্পণকে জটিল করে তুলেছে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল