প্রিন্ট এর তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬
সমকামিতা নিয়ে বিজ্ঞান যা বলছে
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
যৌন অভিমুখিতা ও আকর্ষণ নিয়ে বিশ্বজুড়ে দীর্ঘকাল ধরে গবেষণা ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটেছে। চিকিৎসাবিজ্ঞান ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের আলোয় সমকামিতা কোনো মানসিক রোগ বা ব্যাধি নয়; বরং এটি মানুষের স্বাভাবিক যৌন অভিমুখিতারই একটি জৈবিক ও প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য।আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (এপিএ) ১৯৭৩ সালে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) ১৯৯০ সালে তাদের আন্তর্জাতিক রোগ শ্রেণীকরণ (আইসিডি) তালিকা থেকে সমকামিতাকে সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক বিবেচনা করে মানসিক রোগের তালিকা থেকে বাদ দেয়। গবেষকদের মতে, বিষমকামিতার মতোই সমকামিতাও মানব আচরণের একটি প্রাকৃতিক ধরন।২০১৯ সালে বিখ্যাত ‘সায়েন্স’ সাময়িকীতে প্রায় ৫ লাখ মানুষের ডিএনএ বিশ্লেষণের ওপর প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, সমকামিতার পেছনে একক কোনো ‘গে জিন’ নেই। এমআইটি ও হার্ভার্ডের গবেষকদের মতে, এটি মূলত জেনেটিক ভ্যারিয়েন্ট, গর্ভকালীন হরমোনের প্রভাব এবং স্নায়বিক বিকাশের জটিল মিথস্ক্রিয়ার ফল।বিশেষজ্ঞদের মতে, যৌন অভিমুখিতা কোনো সংক্রামক বিষয় নয় এবং জোরপূর্বক তা পরিবর্তনের চেষ্টা করা অবৈজ্ঞানিক। ‘কনভার্সন থেরাপি’ বা হরমোন পরিবর্তনের অবৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টা কোনো কাজ তো করেই না, বরং তা ব্যক্তিকে তীব্র মানসিক অবসাদ ও আত্মহত্যার ঝুঁকির দিকে ঠেলে দেয়।ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও আইনি কাঠামোর কারণে অনেক সমাজেই এটি অগ্রহণযোগ্য হলেও চিকিৎসাবিজ্ঞান মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিশ্চিত করার ওপর জোর দেয়। পরিবারে অমানবিক আচরণ বা ভণ্ড চিকিৎসকদের ওপর নির্ভর না করে প্রয়োজনে পেশাদার ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টের কাউন্সিলিং গ্রহণের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল