প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুলাই ২০২৬
বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন শুল্ক আরোপ করছে যুক্তরাষ্ট্র
শামিমা লিয়া, আন্তর্জাতিক ডেস্ক এডিটর ||
বাধ্যতামূলক শ্রম নিষিদ্ধের আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ না করার অভিযোগে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন। স্থানীয় সময় শুক্রবার থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নতুন নীতিতে দেশভেদে ১০ থেকে সাড়ে ১২ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ধার্য করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের এই পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রের মোট আমদানির প্রায় ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশ পণ্য সরাসরি প্রভাবিত হবে।বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফেডারেল রেজিস্টার’-এ প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, যুক্তরাজ্য, কানাডা, মালয়েশিয়া ও মেক্সিকোর মতো দেশগুলোর পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও সুইজারল্যান্ডের ওপর পূর্বনির্ধারিত হার সমন্বয় করে ১০ বা সাড়ে ১২ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া চীনসহ বাকি ৩৮টি দেশকে সর্বোচ্চ সাড়ে ১২ শতাংশ শুল্কের আওতায় আনা হয়েছে।এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত ‘পারস্পরিক শুল্ক’ বাতিল করার পর ১৫০ দিনের জন্য ১০ শতাংশের একটি অস্থায়ী শুল্ক বসানো হয়েছিল। এই অস্থায়ী শুল্কের মেয়াদ শুক্রবার মধ্যরাতে শেষ হওয়ার সাথে সাথেই নতুন সিদ্ধান্তটি কার্যকর হচ্ছে। এবার আইনি চ্যালঞ্জ এড়াতে ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ‘৩০১ ধারা’ ব্যবহার করে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। তবে ট্রানজিটে থাকা পণ্যগুলো আগামী ২৮ জুলাই পর্যন্ত এই অতিরিক্ত শুল্কের আওতামুক্ত থাকবে।ব্যাপক পরিসরে শুল্ক আরোপ করা হলেও নির্দিষ্ট কিছু কৌশলগত পণ্যকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তেল-গ্যাস, সার এবং কিছু নির্ধারিত খাদ্যদ্রব্য। পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ২৩২ ধারার আওতায় থাকা গাড়ি, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, তামা এবং ইউএসএমসিএ (USMCA) চুক্তির অন্তর্ভুক্ত পণ্যসমূহ শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে।যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) জেমিসন গ্রির জানান, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল থেকে বাধ্যতামূলক শ্রম নির্মূল করতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপে নরওয়ে, অস্ট্রেলিয়া ও ব্রাজিল তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করে একে অন্যায্য দাবি করেছে। অন্যদিকে কানাডা জানিয়েছে, তারা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করবে। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক শ্রম মানদণ্ডের কথা বলা হলেও মূল উদ্দেশ্য চীন থেকে পণ্য আমদানিতে মার্কিন শুল্ক আরও বাড়ানোর দীর্ঘমেয়াদি কৌশল বজায় রাখা।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল