প্রিন্ট এর তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬
ইসলামে বহুবিবাহের শর্ত ও অপব্যবহার নিয়ে যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ
ইয়াসরির মাহবুব, স্টাফ রিপোর্টার ||
ইসলাম ধর্মে বহুবিবাহের বৈধতা, এর কঠোর শর্তাবলী এবং এর অপব্যবহারের ফলে সৃষ্ট বিভ্রান্তি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় কথা বলেছেন জনপ্রিয় ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ। সম্প্রতি তাঁর অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে ‘একাধিক বিয়ে করে আল্লাহর কাঠগড়ায় দাঁড়াতে পারবেন?’ শীর্ষক প্রকাশিত এক আলোচনায় তিনি বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।আলোচনায় তিনি জানান, ইসলামে পুরুষদের জন্য একাধিক বিয়ের অনুমতি থাকলেও তা শর্তহীন নয়। বহুবিবাহের জন্য প্রথমত সকল স্ত্রীর সার্বিক ভরণপোষণ দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত আর্থিক সামর্থ্য এবং দ্বিতীয়ত স্ত্রীদের মধ্যে সমতা ও পুরোপুরি ইনসাফ বা ন্যায়বিচার করার সামর্থ্য থাকা বাধ্যতামূলক। পবিত্র কুরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, যদি কারও মধ্যে ইনসাফ করতে না পারার বা কোনো একজনের প্রতি বৈষম্য করার আশঙ্কা থাকে, তবে তার জন্য একটির বেশি বিয়ে করা জায়েজ নয়।বর্তমান ও অতীত সমাজের প্রেক্ষাপট তুলনা করে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, কয়েক দশক আগেও একাধিক বিয়ের বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে দেখা হতো, কিন্তু বর্তমানে কিছু মানুষের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের কারণে এই পবিত্র বিধানটি নিয়ে সমাজে নেতিবাচক পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি ইসলামের বিভিন্ন নিয়মকে সামাজিকভাবে হেয় করার অপচেষ্টাও দেখা যাচ্ছে।তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বহুবিবাহকে কোনোভাবেই খেলার ছলে বা মনের ইচ্ছা পূরণের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। যারা বিষয়টিকে তামাশায় পরিণত করছেন, তারা ইসলামি বিধানকে হাস্যকর করার মাধ্যমে মূলত আল্লাহর কাঠগড়ায় আসামির মতো দাঁড়ানোর ঝুঁকি নিচ্ছেন।ইসলামি শরিয়তে মানুষের বাস্তবিক ও বিশেষ পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করেই এই বিধান রাখা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রথম স্ত্রীর দীর্ঘমেয়াদী অসুস্থতা বা বিশেষ সংকটে নিজের চরিত্র রক্ষার্থে দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতি রয়েছে। আল্লাহর প্রতিটি বিধানই মানবজাতির কল্যাণের জন্য প্রণীত, তাই আল্লাহর কোনো বিধানের প্রতি ক্ষোভ বা বিতৃষ্ণা রাখা ইমানের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। পরিশেষে তিনি সকলকে চরম দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল