প্রিন্ট এর তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬
যুদ্ধ থামাতে আলোচনায় প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র, সাড়া দিচ্ছে না ইরান: রুবিও
শামিমা লিয়া, আন্তর্জাতিক ডেস্ক এডিটর ||
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরান সংকট মোকাবিলা ও যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে আমেরিকা এখনও কূটনৈতিক আলোচনায় আগ্রহী, তবে তেহরান এ বিষয়ে বিন্দুমাত্র আন্তরিকতা দেখাচ্ছে না। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের (আসিয়ান) সঙ্গে এক বৈঠককালে তিনি এই মন্তব্য করেন। অন্যদিকে, উপসাগরীয় অঞ্চলের এই সংঘাত দিনে দিনে আরও তীব্র হয়ে বিশ্বের দুটি প্রধান জ্বালানি পরিবহন পথকে সংকটময় করে তুলেছে।ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে সম্প্রতি ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের ওপর নৌ-অবরোধের ঘোষণা দেয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে। এশিয়ার উদ্দেশ্যে সৌদি অপরিশোধিত তেল নিয়ে যাওয়ার পথে অন্তত তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার লোহিত সাগর থেকে দিক পরিবর্তন করে সুয়েজ খালের দিকে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। এতদিন তেল রপ্তানির জন্য সৌদি আরব লোহিত সাগরের উপকূলে ‘ইয়ানবু’ বন্দর ব্যবহার করছিল। তবে হুথিদের হুমকির ফলে এই বিকল্প পথটিও বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যা বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে কমিয়ে দিতে পারে।ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় বক্তব্য রাখার সময় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ইরানকে কোনোভাবেই কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী একক নিয়ন্ত্রণে নিতে দেওয়া হবে না। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন যে মধ্যপ্রাচ্যে যদি এমন কোনো নজির তৈরি হতে দেওয়া হয় যেখানে কোনো রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক নৌপথ নিয়ন্ত্রণ করবে, চাঁদা দাবি করবে এবং তা না দিলে জাহাজ উড়িয়ে দেবে, তবে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে। এই ধরনের প্রবণতা দক্ষিণ চীন সাগরসহ এশিয়ার অন্যান্য সামুদ্রিক অঞ্চলেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত করেন।কূটনৈতিক আলোচনার গুঞ্জনের মধ্যেই সামরিক সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। মঙ্গলবার রাতেও মার্কিন সামরিক বাহিনী টানা ১১তম রাতের মতো ইরানের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে। রাজধানী তেহরান ছাড়াও চাবাহার, কোনারক এবং পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র সমৃদ্ধ বুশেহরে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। জবাবি হিসেবে ইরান ইতোমধ্যে বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা এবং একটি বাণিজ্যিক ডেটা সেন্টারে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে। হতাহতের পরিসংখ্যানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে যুদ্ধে এ পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন, অন্যদিকে সাম্প্রতিক মার্কিন হামলায় ৫০ জন সাধারণ বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং প্রায় ৫০০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বিস্তৃত হওয়ার কারণে এশিয়ার বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ৯১ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল