প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুলাই ২০২৬
খার্গ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনে মতবিভক্তি
শামিমা লিয়া, আন্তর্জাতিক ডেস্ক এডিটর ||
ইরানের অর্থনীতির লাইফলাইন এবং অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র ‘খার্গ দ্বীপ’-এর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার একটি পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের একটি অংশ মনে করছে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া গেলে ইরানের অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং সামরিক অর্থায়নে বড় ধরনের ধাক্কা দেওয়া সম্ভব হবে।পারস্য উপসাগরে ইরানের মূল উপকূল থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই খার্গ দ্বীপ। ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিকভাবে এই দ্বীপটি ইরানের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা বোঝা যায় একটি পরিসংখ্যান থেকেই—দেশটির উৎপাদিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই এই একটিমাত্র দ্বীপের মাধ্যমে বিশ্ববাজারে রপ্তানি করা হয়। এমনকি ১৯৮৪ সালের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির (সিআইএ) একটি গোপন নথিতেও এই দ্বীপটিকে ইরানের তেল খাতের সবচেয়ে সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। খার্গ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার এই ধারণাটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য একেবারেই নতুন নয়। তিনি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ার বহু আগে, ১৯৮৮ সালেও ইরানের এই প্রধান তেল কেন্দ্রটি দখলের সম্ভাবনা ও কার্যকারিতা নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে।বর্তমান প্রশাসনের একটি অংশ মনে করছে, এই দ্বীপে আঘাত হানা বা এর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা গেলে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর আয়ের মূল উৎসে সরাসরি বড় আঘাত হানা যাবে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের গতিপথ চিরতরে বদলে যেতে পারে।পরিকল্পনাটি নিয়ে আলোচনা চললেও ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের আরেকটি অংশ এই সম্ভাব্য অভিযান নিয়ে চরম সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তাদের মতে, পারস্য উপসাগরের ভেতরে ঢুকে ইরানের এত গুরুত্বপূর্ণ একটি দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিতে গেলে বিপুল সংখ্যক মার্কিন স্থলসেনা মোতায়েন করতে হবে।একই সাথে, সরাসরি ইরানের মাটিতে এই ধরনের আগ্রাসন আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে একটি ভয়াবহ সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে সামরিক ও কূটনৈতিক—উভয় দিক থেকেই এই পরিকল্পনাটি আমেরিকার জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করছেন প্রশাসনের শান্তিকামী নীতিনির্ধারকেরা।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল