প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুলাই ২০২৬
বাবুনগর বৈঠকে ঐক্যের সিদ্ধান্ত ৭ ইসলামি রাজনৈতিক দলের
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইমান-আকিদা সংরক্ষণ এবং দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে কওমি ঘরানার প্রধান ৭টি ইসলামি রাজনৈতিক দল এখন থেকে নীতিগতভাবে একসাথে পথ চলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সাথে কওমি ঘরানার রাজনৈতিক দলগুলোর এক উচ্চপর্যায়ের রুদ্ধশ্বাস বৈঠক শেষে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঐতিহাসিক ঘোষণা দেওয়া হয়।আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে শুরু হওয়া এই আলোচনা সভায় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে থাকা কওমি দলগুলোকে ওই জোট থেকে বের করে আনা এবং ইসলামি শক্তিগুলোর নিজস্ব রাজনৈতিক মেরুকরণ ও ভবিষ্যৎ সমন্বিত কর্মপন্থা নির্ধারণের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। ১১ দলীয় জোট গঠনের শুরু থেকেই হেফাজতের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী এই জোটের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছিলেন।হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, সিনিয়র নায়েবে আমির ও হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক আল্লামা খলিল আহমদ কাসেমী এবং মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমানের যৌথ আহ্বানে এই বিশেষ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।বৈঠকের উদ্দেশ্যে পাঠানো আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্রে উল্লেখ করা হয়েছিল, “ইমান-আকিদা সংরক্ষণ এবং দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ইসলামি শক্তির ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।” এ লক্ষ্যেই প্রতিটি দলকে সভাপতিসহ তিনজন করে প্রতিনিধি পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কওমি ঘরানার এই দলগুলোকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট থেকে সরিয়ে এনে একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন ইসলামি ব্লক তৈরি করাই ছিল এই দীর্ঘ বৈঠকের মূল লক্ষ্য।বৈঠকে অংশ নেওয়ার জন্য কওমি ঘরানার যে ৭টি রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং যারা দীর্ঘ আলোচনা শেষে ঐক্যবদ্ধভাবে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেগুলো হলো— ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, খেলাফত আন্দোলন, ইসলামী ঐক্যজোট ও নেজামে ইসলাম পার্টি।গুরুত্বপূর্ণ এই সভায় হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নীতি-নির্ধারকদের পাশাপাশি আমন্ত্রিত দলগুলোর প্রথম সারির সব নেতা উপস্থিত ছিলেন। অংশ নেওয়া শীর্ষ নেতৃবৃন্দের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, মহাসচিব মুফতি সাজিদুর রহমান, সিনিয়র নায়েবে আমির ও দারুল উলুম হাটহাজারীর মহাপরিচালক মুফতি খলিল আহমদ কাসেমী, আল্লামা আব্দুল হামিদ (مধুপুরের পীর), নায়েবে আমির মাওলানা জসিম উদ্দীন, নায়েবে আমির ও নানুপুর বড় মাদ্রাসার মহাপরিচালক মাওলানা সালাহউদ্দীন নানুপুরী এবং বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের (বেফাক) চেয়ারম্যান মাওলানা মাহফুজুল হক।বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, নায়েবে আমির মাওলানা আলী উসমান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী, মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইজহার, খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী এবং নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন।বৈঠক শেষে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মীর ইদ্রীস এবং উপস্থিত শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ একটি যৌথ ভিডিও বার্তার মাধ্যমে সভার সিদ্ধান্ত দেশবাসীকে জানান। ভিডিও বার্তায় নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট করেন যে, দেশের চলমান জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ইসলামি দলগুলোর পারস্পরিক সমন্বয়হীনতা দূর করতে তারা এখন থেকে একটি একক প্ল্যাটফর্ম বা কৌশলগত অবস্থান থেকে একসাথে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবেন।এই সিদ্ধান্তের ফলে কওমি অঙ্গনের দলগুলোর জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে থাকা না থাকার বিষয়টি এখন সম্পূর্ণ হিসাবের বাইরে চলে গেল এবং দেশের রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণের সূচনা হলো। আজকের এই ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্তের পর দলগুলোর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল, লিয়াজোঁ কমিটি গঠন এবং আন্দোলনের বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক রূপরেখা ও লিখিত বিবৃতি শিগগিরই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে বলে ভিডিও বার্তায় জানানো হয়।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল