প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুলাই ২০২৬
মিকম্পে ঢাকার আসল ভয় ‘ব্লাইন্ড ফল্ট’
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে ঢাকা শহরের কোনো এলাকাকে সুনির্দিষ্টভাবে ‘সম্পূর্ণ নিরাপদ’ বলা যায় কি না—এই প্রশ্নের সরাসরি কোনো উত্তর নেই বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, কোনো এলাকার নিরাপত্তা মূলত দুটি প্রধান বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। প্রথমত, এলাকার ভূতাত্ত্বিক গঠন বা মাটির প্রকৃতি এবং দ্বিতীয়ত, ভবনের কাঠামোগত নির্মাণমান ও দুর্যোগ-পরবর্তী উদ্ধার ব্যবস্থার সুবিধা।ভূতত্ত্ববিদদের মতে, ঢাকার উত্তর দিকের বিস্তীর্ণ অংশ মধুপুরের লাল মাটির ওপর গঠিত, যা প্রাকৃতিকভাবে বেশ শক্ত ও দৃঢ়। শুধু মাটির এই ভূতাত্ত্বিক গঠন বিবেচনা করলে ঢাকার লাল মাটির গড়নের কিছু এলাকা তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক বা নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে। এই এলাকাগুলোর মধ্যে রমনা, মগবাজার, নিউমার্কেট, লালমাটিয়া, ধানমন্ডি, লালবাগ, খিলগাঁও, মতিঝিল, মিরপুর, তেজগাঁও এবং গুলশান অন্যতম। বিপরীতে, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে ঢাকা শহর যখন পূর্ব ও পশ্চিমে সম্প্রসারিত হতে শুরু করে, তখন নরম পলিমাটি এবং বিভিন্ন জলাশয় ভরাট করে আবাসন গড়ে তোলা হয়। ভূতাত্ত্বিকভাবে এই ভরাট করা এলাকাগুলো লাল মাটির চেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারী জানান, কেবল মাটির গঠনের ওপর ভিত্তি করে কোনো এলাকাকে নিরাপদ বা ঝুঁকিমুক্ত ঘোষণা করা মুশকিল। ভবনের কাঠামোগত শক্তি পরীক্ষা না করে চূড়ান্ত মন্তব্য করা যায় না। অনেক সময় আপাতদৃষ্টিতে নতুন ঢাকাকে নিরাপদ মনে হলেও পুরান ঢাকার চেয়ে এর ঝুঁকি কম নয়। নতুন ও পুরান ঢাকার মূল পার্থক্য মূলত রাস্তার প্রশস্ততায়। পুরান ঢাকার রাস্তাগুলো অত্যন্ত সরু হওয়ায় ভূমিকম্প-পরবর্তী সময়ে উদ্ধারকাজ চালানো এবং মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরানো কঠিন হতে পারে। তবে পুরান ঢাকার অনেক ভবন শত বছরেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন ভূমিকম্প সহ্য করে টিকে আছে, যা প্রমাণ করে ভবনের নির্মাণশৈলীই ঝুঁকির মাত্রা নির্ধারণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে।বিশেষজ্ঞরা জানান, ঢাকার ভৌগোলিক সীমানার ভেতরে সরাসরি কোনো দৃশ্যমান ফল্ট লাইন বা চ্যুতি রেখা নেই। তবে বাংলাদেশের চারপাশে পাঁচটি প্রধান প্লেট বাউন্ডারি বা ফল্ট লাইন রয়েছে, যা অতীতে ৭ থেকে ৮.৫ মাত্রার বড় ভূমিকম্পের উৎস ছিল। এই পরিচিত ফল্ট লাইনগুলোর পাশাপাশি ঢাকার জন্য সবচেয়ে বড় ভীতি হলো ‘ব্লাইন্ড ফল্ট’। এটি এমন এক ধরনের চ্যুতি রেখা যা ভূ-পৃষ্ঠ পর্যন্ত পৌঁছায় না, ফলে সাধারণ ভূতাত্ত্বিক মানচিত্রে এদের উপস্থিতি সহজে শনাক্ত করা যায় না। বাংলাদেশে বর্তমানে ময়মনসিংহ ও রংপুরে দুটি ব্লাইন্ড ফল্ট চিহ্নিত রয়েছে। যেহেতু এই ফল্টগুলোর আগাম পূর্বাভাস পাওয়া কঠিন, তাই এগুলো ঢাকার জন্য বড় ধরনের বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল