প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুলাই ২০২৬
রুদ্ধশ্বাস জয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
বিশ্বকাপের মঞ্চে আরেকটি মহাকাব্যিক ও নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের গল্প রচনা করে ফাইনালে পৌঁছে গেছে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৮৪ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তের অবিশ্বাস্য ঝড়ে ইংল্যান্ডের স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। ২-১ গোলের এই রুদ্ধশ্বাস জয়ের পর আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, চরম প্রতিকূলতা ও চাপের মাঝেই তাঁর দল সবচেয়ে বেশি ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে এবং নিজেদের সেরা ফুটবলটা উজাড় করে দেয়।আটলান্টায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালের প্রথমার্ধ ছিল গোলশূন্য। তবে দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫তম মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের চমৎকার গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে চরম চাপের মুখে পড়ে আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার মাত্র পাঁচ মিনিট আগে পর্যন্ত হারের শঙ্কায় থাকা বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা ম্যাচের শেষ মুহূর্তে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসে। এক অবিশ্বাস্য আক্রমণে ইংলিশ রক্ষণভাগকে তছনছ করে দিয়ে ২-১ গোলের স্মরণীয় জয় ছিনিয়ে নেয় স্কালোনির শিষ্যরা।চলতি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের শুরু থেকেই অবশ্য এটি আর্জেন্টিনার নিয়মিত চিত্র। কেইপ ভার্ড, মিশর কিংবা সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রতিটি ম্যাচেই কখনও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে, আবার কখনও পেছন থেকে প্রবলভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে জিতেছে তারা।ম্যাচ শেষে দলের এমন লড়াকু পারফরম্যান্সে তৃপ্তি প্রকাশ করে কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেন, “আমি সত্যি মনে করি, এই দল চাপের মধ্যে থাকলেই তাদের সেরা ফুটবলটা খেলে। যখন আমরা চাপে থাকি এবং প্রতিপক্ষ সামান্য দ্বিধা করে, তখনই আমরা সুযোগটা লুফে নিই এবং আমাদের সর্বস্ব দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ি। দল একেবারে শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছে, আর এটাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি যদি আমরা বাদ পড়ে বাড়ি ফিরতাম, তবুও আমরা এটা জেনেই ফিরতাম যে, মাঠে আমরা আমাদের সবটুকু দিয়ে এসেছি।”পিছিয়ে পড়ার পর শেষ ৪০ মিনিটে ফুটবলাররা যেভাবে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে, সেটিকে দলের মূল পরিচয় মনে করেন কোচ। তিনি বলেন, “ফুটবল শুধু কৌশল বা রণনীতি কিংবা আকর্ষণীয় ফুটবল খেলা নয়। আমরা যা কিছুতে বিশ্বাস করি, তার সবকিছুই ওই শেষ ৪০ মিনিটে প্রতিফলিত হয়েছে।”ফুটবলারদের ইতিবাচক অর্থে ‘একগুঁয়ে’ ও ‘যোদ্ধা’ হিসেবে অভিহিত করে স্কালোনি তাদের নির্ভীক চরিত্রের পেছনের গল্প তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “ওরা যোদ্ধা। ওরা এমন পরিবেশে বড় হয়েছে, যেখানে কোনো কিছুকেই ভয় পেত না। ওরা সবসময় প্রতিযোগিতা করত, সবসময় সেরা হওয়ার প্রত্যাশা করত। দায়িত্ব ওদের ওপর কোনো ভার চাপায় না।”তিনি আরও যোগ করেন, “ম্যাচের শেষ ১৫-২০ মিনিটে যখন ভুলের কারণে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার ভয় থাকে, তখনও ওরা বল নিজেদের কাছে রাখতে চেয়েছে। ভয়ের বদলে ওরা কেবল ফুটবল খেলার কথাই ভাবছিল, যেমনটা সারাজীবন করে এসেছে। ওরা একটা পরিবারের মতো এবং একটি বলও কখনও সহজে ছেড়ে দেয় না।”টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বজয়ের মুকুট পরার থেকে এখন মাত্র এক ম্যাচ দূরে দাঁড়িয়ে আর্জেন্টিনা। ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ ইউরোপিয়ান জায়ান্ট স্পেন। ফাইনাল জয়ের জন্য সাধ্যমতো সবকিছু করার প্রত্যয় ব্যক্ত করলেও, এই দলের কাছে আর নতুন কিছু প্রমাণ করার নেই বলে মনে করেন স্কালোনি।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল