প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুলাই ২০২৬
সুন্দরবনে ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধানসহ ২৭ দস্যুর আত্মসমর্পণ
মোঃ রফিকুল ইসলাম , স্টাফ রিপোর্টার ||
সুন্দরবনে দস্যু দমনে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে কুখ্যাত ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধানসহ ২৭ সদস্য অস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন। মঙ্গলবার মোংলায় কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে তারা আত্মসমর্পণ করেন।আত্মসমর্পণের সময় তারা তিনটি বিদেশি বন্দুক, একটি এইট শুটার, একটি ফোর শুটার, পাঁচটি দেশি একনলা বন্দুক, ১৫টি পাইপগান, দুটি চায়না পাইপগান, ৩৪০টি তাজা কার্তুজ এবং ৫৫টি ফাঁকা কার্তুজ কোস্টগার্ডের কাছে জমা দেন।কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম বলেন, অতীতে আত্মসমর্পণের সুযোগ নিয়ে কেউ কেউ আবার বনদস্যুতায় জড়িয়ে পড়েছিলেন। এবার সেটি আর হতে দেওয়া হবে না। তিনি জানান, এটি আত্মসমর্পণকারীদের জন্য শেষ সুযোগ। ভবিষ্যতে কেউ আবার অপরাধে জড়ালে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।কোস্টগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর আওতায় এ পর্যন্ত ৪৫ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৪২ জন জেলে ও বনজীবীকে দস্যুদের জিম্মিদশা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে ছোট সুমন বাহিনীর সাত সদস্য এবং বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সদস্যও আত্মসমর্পণ করেছিলেন।আত্মসমর্পণের পর ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান জানান, ২০১৮ সালে আত্মসমর্পণের পর তিনি ব্যবসা শুরু করেছিলেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন মামলা ও হামলার মুখে পড়ে আবার সুন্দরবনে ফিরে যেতে বাধ্য হন। পুনর্বাসনের সুযোগ পেলে আর কখনো অপরাধের পথে ফিরবেন না বলেও তিনি অঙ্গীকার করেন।
কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, আত্মসমর্পণকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সুন্দরবনকে স্থায়ীভাবে দস্যুমুক্ত রাখতে কোস্টগার্ডের অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল