প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬
রাতে ভাত খাওয়া কি সত্যিই ক্ষতিকর, জানালেন পুষ্টিবিদ
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
‘মাছে-ভাতে বাঙালি’— চিরায়ত এই সত্যটি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সকল বাঙালির জন্যই প্রযোজ্য। যত সুস্বাদু খাবারই খাওয়া হোক না কেন, শেষ পাতে একটু ভাত না হলে বাঙালির তৃপ্তি আসে না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রচারণার কারণে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জেগেছে যে রাতে ভাত খাওয়া কি আসলেই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এই বিষয়ে প্রচলিত বিভ্রান্তি দূর করতে কলকাতার বিশিষ্ট পুষ্টিবিদ মীনাক্ষী মজুমদার ভাতের পুষ্টিগুণ এবং রাতে ভাত খাওয়ার সঠিক নিয়ম নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন।পুষ্টিবিদের মতে, দিনভর কঠোর পরিশ্রমের পর শরীরের প্রয়োজনীয় শক্তির ঘাটতি মেটাতে ভাত অত্যন্ত কার্যকরী। ভাতে প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা থাকে, যা শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তির জোগান দিয়ে ক্লান্তি দূর করে। এছাড়া ভাতে রয়েছে আয়রন, ভিটামিন বি৬, ম্যাগনেশিয়াম ও পটাশিয়ামসহ নানা ধরনের প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ উপাদান, যা শরীরের অভ্যন্তরীণ পুষ্টির ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।রাতে ভাত খাওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে পুষ্টিবিদ মীনাক্ষী মজুমদার স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, রাতে অবশ্যই ভাত খাওয়া যায় এবং এতে শরীরের কোনো ক্ষতি হয় না। ভাত একটি অত্যন্ত সহজপাচ্য বা সহজে হজম হয় এমন খাবার হওয়ায় রাতে এটি খেলে পেটের সমস্যা বা বদহজমের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। পাশাপাশি, রাতে পরিমিত ভাত খেলে ঘুমও বেশ ভালো হয়। তাই যারা রাতে কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার পছন্দ করেন, তারা নিশ্চিন্তে পরিমিত পরিমাণ ভাত খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন।ভাতের পরিমাপ মূলত ব্যক্তির উচ্চতা, ওজন এবং শারীরিক পরিশ্রমের ওপর নির্ভর করে। পুষ্টিবিদের তথ্য অনুযায়ী, একজন সুস্থ মানুষ, যার উচ্চতা আনুমানিক ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি, তিনি দৈনিক গড়ে ১৫০ গ্রাম চালের ভাত খেতে পারেন। এই পরিমাণকে দুই ভাগে ভাগ করে প্রতি বেলায় অর্থাৎ দুপুরে ও রাতে ৭৫ গ্রাম করে চালের ভাত খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য আদর্শ। তবে কার শরীরে ঠিক কতটুকু ভাতের প্রয়োজন, তা একজন সার্টিফাইড ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনিস্টের পরামর্শ নিয়ে নির্ধারণ করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।রক্তে শর্করার মাত্রা বা ব্লাড সুগার বেশি থাকলে অনেকেই রাতে ভাত খেতে ভয় পান। তবে পুষ্টিবিজ্ঞান বলছে, সঠিক নিয়ম মেনে চললে ডায়াবেটিস রোগীরাও রাতে ভাত খেতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে মূল চাবিকাঠি হলো পরিমিতিবোধ। একজন বিশেষজ্ঞ পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী ভাতের পরিমাণ বা পোর্শন সাইজ নির্দিষ্ট করে নিলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখেই রাতে ভাত খাওয়া সম্ভব। তবে পরিমাপের বাইরে অতিরিক্ত ভাত খেলে ডায়াবেটিসের জটিলতা বাড়ার আশঙ্কা থাকে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল