প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬
বাংলাদেশের উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস বিমসটেক মহাসচিবের
সুমাইয়া জাবির , ন্যাশনাল ডেস্ক এডিটর ||
বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন ৭ দেশের আঞ্চলিক জোট বিমসটেক প্রতিষ্ঠার ৩০ বছরে পদার্পণ করেছে। তিন দশকের এই পথচলায় আঞ্চলিক সহযোগিতার সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা, কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারে কাজ করছে সংস্থাটি। বিমসটেকের মূল লক্ষ্যই হলো সদস্য দেশগুলোর জনগণের জন্য বাস্তব ও দৃশ্যমান সহযোগিতা নিশ্চিত করা। এই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে বিমসটেক ভবিষ্যতেও পাশে থাকবে বলে জানিয়েছেন জোটটির মহাসচিব ইন্দ্র মনি পান্ডে। যমুনা টেলিভিশনকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি সংস্থার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশের সাথে সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।আগামী ১৬ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সংস্থাটির ৫ম বিমসটেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বৈঠক। জোটটির মহাসচিব জানান, সদস্য রাষ্ট্র ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারে এই বৈঠকে মানবপাচার প্রতিরোধ, প্রত্যর্পণ সহযোগিতা ও দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের স্থানান্তর বিষয়ে আলোচনা চূড়ান্ত হবে। নিরাপত্তা খাতের অগ্রগতি নিয়ে ইন্দ্র মনি পান্ডে বলেন, মাদকপাচার, মানবপাচারসহ বিভিন্ন আন্তঃদেশীয় অপরাধ নিয়ে বিমসটেকের একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ নিয়মিত কাজ করছে। সাইবার নিরাপত্তা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং বঙ্গোপসাগরভিত্তিক অন্যান্য অপরাধ প্রতিরোধেও এই গ্রুপটি সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। সন্ত্রাসবাদ, মাদকপাচার এবং অন্যান্য আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে ইতিমধ্যে একটি কনভেনশন কার্যকর হয়েছে, যা সদস্য রাষ্ট্রগুলো বাস্তবায়ন করছে। এর পাশাপাশি মানবপাচার প্রতিরোধ, প্রত্যর্পণ ও দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের স্থানান্তরের লক্ষ্যে আরও তিনটি নতুন কনভেনশন নিয়ে বর্তমানে আলোচনা চলছে। নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক আয়োজনের বিষয়েও জোটের মধ্যে একমত পোষণ করা হয়েছে।স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের বিষয়ে বিমসটেক মহাসচিব স্পষ্ট করেন যে, বাংলাদেশের স্তর উন্নীত হোক বা না হোক, বিমসটেকের সহযোগিতার ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে বিমসটেকও সেই উন্নয়নযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। বিভিন্ন খাতে বিমসটেকের গৃহীত উদ্যোগসমূহ বাংলাদেশের নিজস্ব উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বেশ সহায়ক হয়েছে।বাংলাদেশে রাজনৈতিক সরকারব্যবস্থার পরিবর্তন বা আঞ্চলিক জোট সার্কের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে বিমসটেকের কোনো উদ্বেগ নেই বলে জানান মহাসচিব। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করা তাঁর এখতিয়ারের বাইরে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিমসটেক সবসময়ই বাংলাদেশ সরকারের পূর্ণ সহযোগিতা পেয়ে আসছে। বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশ সরকার বিমসটেকের বিভিন্ন কার্যক্রম ও সভায় অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে এবং জোটের প্রতি বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি বা অঙ্গীকারে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বর্তমানে বাংলাদেশ বিমসটেকের চেয়ার দেশের দায়িত্বে রয়েছে এবং এই দায়িত্বে থেকে বাংলাদেশ জোটটির অগ্রাধিকার খাতগুলোতে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদারে নেতৃত্ব দিচ্ছে। এছাড়া, সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আন্তঃআঞ্চলিক বাণিজ্য-বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সংযোগ আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বর্তমানে বিমসটেক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও সাক্ষাৎকারে নিশ্চিত করেন জোটের মহাসচিব।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল