প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬
স্পেনে স্মরণকালের ভয়াবহ দাবানলে নিহত ১২
শামিমা লিয়া, আন্তর্জাতিক ডেস্ক এডিটর ||
স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় অঞ্চলে স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ দাবানলে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং স্বজনদের বাঁচাতে গিয়ে নিহতদের মর্মান্তিক সব তথ্য সামনে আসছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে গত শুক্রবার এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা শুক্রবার জানিয়েছেন, কোস্টা দে আলমেরিয়ার লস গ্যালার্দোস শহরের কাছে সৃষ্ট এই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ৪৬০ জনেরও বেশি জরুরি উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। এই অঞ্চলের স্বাস্থ্য ও জরুরি সেবা বিষয়ক মন্ত্রী আন্তোনিও সাঞ্জ জানিয়েছেন, পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় এই এলাকাটি থেকে ইতিমধ্যে অন্তত ১,৪০৫ জন বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি এটিকে এই অঞ্চলের ইতিহাসে "এযাবৎকালের সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক দাবানল" বলে অভিহিত করেছেন।উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, আগুনে অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আন্দালুসিয়ার আঞ্চলিক প্রধান হুয়ানমা মোরেনো প্রথমে ২৩ জন নিখোঁজ থাকার কথা জানালেও, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পরবর্তীতে জানান যে সেই সংখ্যাটি প্রাথমিক ছিল এবং বর্তমানে অফিশিয়ালি ৩ জন নিখোঁজ থাকার রিপোর্ট নিশ্চিত করা হয়েছে।জরুরি সেবা বিষয়ক মন্ত্রী আন্তোনিও সাঞ্জ জানান, দাবানলের আগুন থেকে বাঁচতে কিছু ভুক্তভোগী একটি শুকিয়ে যাওয়া নদীখাত (Dry river bed) দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন, যা পরবর্তীতে একটি মারাত্মক "মৃত্যুফাঁদে" পরিণত হয়। এই নদীখাতে একটি গাড়ির ভেতর থেকে ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং পায়ে হেঁটে আগুন থেকে বাঁচার চেষ্টাকালে আরও ৭ জন নিহত হন। সাঞ্জ আরও উল্লেখ করেন, প্রাথমিক আলামত অনুযায়ী নিহতদের বেশিরভাগই, সম্ভবত সবাই, বিদেশি নাগরিক। তবে তাদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এটি চূড়ান্তভাবে বলা যাচ্ছে না। পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও নিশ্চিত করেছেন যে নিহতদের মধ্যে কিছু বিদেশি নাগরিক রয়েছেন।লস গ্যালার্দোসের মেয়র ফ্রান্সিসকো রেয়েস পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে জানান, তীব্র বাতাস থাকার কারণে আগুন অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। ইতিমধ্যে আলমোকািজার এবং তেরমিনার দে বেদাসের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং পশ্চিম দিক থেকে আসা বাতাসের কারণে আগুন নিকটবর্তী একটি ক্যাম্পসাইটের দিকে ধাবিত হচ্ছে, যেখানে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ মানুষ অবস্থান করছেন।পরিবেশবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপজুড়ে চলমান জলবায়ু সংকটের কারণে আবহাওয়া অতিরিক্ত উত্তপ্ত ও শুষ্ক হয়ে উঠছে, যা এই ধরনের তীব্র দাবানলের ক্ষেত্র প্রস্তুত করছে। ক্যাডিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ফার্নান্দো ওজেদা জানান, এই আগুনে ইতিমধ্যে ৩,০০০ হেক্টরেরও বেশি এলাকা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক ল্যান্ডস্কেপে এত বিশাল আকারের দাবানল স্বাভাবিক ঘটনা নয়।২০০৫ সালের পর এটিই স্পেনের সবচেয়ে মারাত্মক ও ভয়াবহ দাবানল। এর আগে ২০০৫ সালে গুয়াদালাজারা প্রদেশে একটি বারবিকিউ থেকে সূত্রপাত হওয়া আগুনে ১১ জন ফায়ারফাইটার নিহত হয়েছিলেন।উল্লেখ্য, চলতি গ্রীষ্মে ইউরোপজুড়ে তাপদাহের কারণে আবহাওয়ার চরম তাপমাত্রা অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিচ্ছে। স্পেনের আবহাওয়া অফিস (AEMET) জানিয়েছে, গত মাসে স্পেনের জাতীয় তাপমাত্রা গড় তাপমাত্রা থেকে ১২.৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৭.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস) পর্যন্ত বেশি রেকর্ড করা হয়েছিল। স্পেনের পাশাপাশি প্রতিবেশী ফ্রান্স ও পর্তুগালেও তীব্র দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে, যার ধোঁয়া মহাকাশ থেকেও দৃশ্যমান হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল