প্রিন্ট এর তারিখ : ১০ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুলাই ২০২৬
চট্টগ্রাম বন্যায় প্রধানমন্ত্রীর ১০ জরুরি নির্দেশনা
ইয়াসরির মাহবুব, স্টাফ রিপোর্টার ||
কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রাম অঞ্চলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংকটময় এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং দুর্গত মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় সরকারের প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ মাঠপর্যায়ে একযোগে কাজ করছেন।চট্টগ্রাম অঞ্চলের এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর গৃহীত ও নির্দেশিত প্রধান ১০টি উদ্যোগ নিচে তুলে ধরা হলো:১. সার্বক্ষণিক মনিটরিং ও যোগাযোগপ্রধানমন্ত্রী নিজে সার্বক্ষণিকভাবে দুর্যোগকবলিত এলাকার খোঁজ-খবর নিচ্ছেন এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নিয়মিতভাবে বন্যাকবলিত জেলার ডিসি, ইউএনও এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সবার সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।২. ১ হাজার ৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালুচট্টগ্রাম বিভাগের দুর্যোগকবলিত এলাকাগুলোতে ইতিমধ্যে ১,০৫৭টি জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকিতে থাকা এলাকা থেকে প্রায় ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ এই আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নিরাপদে আশ্রয় গ্রহণ করেছেন।৩. নগদ অর্থ ও সাড়ে ৩ হাজার টন চাল বরাদ্দজেনারেল রিলিফ (জিআর) কর্মসূচির আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—এই ৫টি জেলার দুর্গত মানুষের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা নগদ অনুদান এবং ৩,৪৫০ মেট্রিক টন চাল দ্রুততম সময়ে সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।৪. জরুরি খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণআশ্রয়কেন্দ্র ও দুর্গত এলাকায় নিরাপদ খাবার পানি, স্যানিটেশন ব্যবস্থা, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা এবং শিশুখাদ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সাথে বন্যাকবলিত মানুষের জন্য তিন বেলা নিয়মিত খাবার সরবরাহ করার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।৫. উদ্ধার কার্যক্রমে সেনাবাহিনী মোতায়েনজরুরি পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিশেষ করে পাহাড়ি দুর্গম এলাকায় দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।৬. জনপ্রতিনিধিদের সশরীরে মাঠে অবস্থানপ্লাবিত অঞ্চল পরিদর্শন, ত্রাণ বিতরণ এবং প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সহায়তার বার্তা পৌঁছে দিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিদের নিজ নিজ এলাকায় সশরীরে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে সার্বক্ষণিক তদারকি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।৭. দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে সমন্বিত ত্রাণ তৎপরতাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে রাষ্ট্র পরিচালনাকারী দল বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী, প্রতিটি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনকে মাঠে নামার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারের প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও কোস্টগার্ড মাঠপর্যায় থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত একযোগে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।৮. এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধস পরিস্থিতির কারণে পরীক্ষার্থীদের যাতায়াত ও সার্বিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দুর্গত এলাকার চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।৯. ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে প্রশাসনএই দুর্যোগে যারা হতাহত হয়েছেন, তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে গভীর সমবেদনা জানাতে এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক ও সামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।১০. দোহাজারী রেলপথ ৫ ফুট উঁচু করার মেগা পরিকল্পনাটানা ভারী বর্ষণে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথকে ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি থেকে মুক্ত রাখতে ৫ ফুট উঁচু করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার রেলপথের উচ্চতা বৃদ্ধির কাজের দরপত্র (টেন্ডার) প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এছাড়া পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের স্থায়ী পুনর্বাসনের জন্য নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা করবে সরকার।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল