প্রিন্ট এর তারিখ : ১০ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুলাই ২০২৬
খামেনির শেষযাত্রা ঘিরে চমকপ্রদ দাবি তেহরানের
শামিমা লিয়া, আন্তর্জাতিক ডেস্ক এডিটর ||
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা, শোকযাত্রা ও দাফন উপলক্ষে আয়োজিত ছয় দিনব্যাপী কর্মসূচিতে ৪ কোটিরও বেশি মানুষ অংশ নিয়েছেন বলে দাবি করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের রাষ্ট্রীয় হিসাব অনুযায়ী খামেনির শেষ বিদায়ের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৪ কোটি ১০ লাখ থেকে ৪ কোটি ৩০ লাখের মতো। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ‘প্রেস টিভি’ এই নজিরবিহীন শোকযাত্রাকে ‘বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠান’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে (২৮ ফেব্রুয়ারি) তেহরানের কেন্দ্রস্থলে নিজ বাসভবনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন খামেনি। হত্যাকাণ্ডের চার মাসেরও বেশি সময় পর গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) উত্তর-পূর্ব ইরানের অন্যতম পবিত্র শিয়া ধর্মীয় স্থান মাশহাদের ‘ইমাম রেজা (আ.)’-এর মাজার প্রাঙ্গণে তাঁকে দাফন করা হয়। এর আগে গত শনিবার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা ধর্মীয় কমপ্লেক্সে খামেনির মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হলে সেখানে লাখো মানুষের ঢল নামে। তেহরান, কোম, নাজাফ, কারবালা এবং মাশহাদ—এই পাঁচ শহরে পর্যায়ক্রমে তাঁর জানাজা ও শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এই শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে ইরানের আঞ্চলিক মিত্র সংগঠন হামাস, ইসলামিক জিহাদ, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের হুথি আন্দোলনের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।এদিকে তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো (NATO) সম্মেলনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা ও নিন্দা জানিয়েছে ইরান। রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা ইরনার (IRNA) বরাত দিয়ে জানা যায়, সম্মেলনে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ন্যাটোর অবস্থানকে সম্পূর্ণ পক্ষপাতদুষ্ট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে দেখছে তেহরান। তুরস্কে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস এক বিবৃতিতে পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো পরিকল্পনা ইরানের নেই। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা রক্ষার একক দায়িত্ব নিজেদের উল্লেখ করে এই অঞ্চলের সার্বিক অস্থিতিশীলতার জন্য তারা বহিরাগত শক্তিগুলোকে দায়ী করেছে।অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসী সামরিক পদক্ষেপের প্রতি ন্যাটোর অন্ধ সমর্থন মূলত তাদের একপেশে রাজনৈতিক অবস্থানেরই প্রতিফলন। উল্লেখ্য, এই ন্যাটো সম্মেলনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপীয় মিত্রদের হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং ইরানকে ‘সন্ত্রাসবাদের সবচেয়ে বড় পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র’ আখ্যা দেওয়ার পরও ন্যাটো যুক্তরাষ্ট্রকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে অনাগ্রহ দেখিয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল