প্রিন্ট এর তারিখ : ১০ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুলাই ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বাড়ছে তেলের দাম
ইয়াসরির মাহবুব, স্টাফ রিপোর্টার ||
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া রক্তক্ষয়ী সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) আরও বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলো থেকে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার তীব্র আশঙ্কায় চলতি সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের দাম সামগ্রিকভাবে বড় ধরনের সাপ্তাহিক বৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।আজ আন্তর্জাতিক বাজার সময় ভোর ৩টা ১৯ মিনিটে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচার মূল্য ১৯ সেন্ট বা ০.২৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৭৬.৪৯ মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের দামও ১৯ সেন্ট বা ০.২৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেল প্রতি ৭২.২৭ ডলারে পৌঁছায়। এই মূল্যবৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় চলতি পুরো সপ্তাহের হিসাবে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৬ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বৃদ্ধির রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে।তেল বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘ভান্দা ইনসাইটস’-এর প্রতিষ্ঠাতা বন্দনা হারি বলেন, “সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে তেলের দাম যে সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছেছিল, তা থেকে কিছুটা কমলেও বাজারে এখনও বড় ধরনের ঝুঁকি প্রিমিয়াম রয়ে গেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে এবং পরিস্থিতি কখন স্বাভাবিক হবে তার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ নেই।” তবে তিনি যোগ করেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি সমাধানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান শেষ পর্যন্ত কূটনীতির পথেই ফিরবে—বাজারের এমন কিছুটা আত্মবিশ্বাসের কারণে তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আটকে রয়েছে।গত ফেব্রুয়ারি মাসের ২৮ তারিখে যৌথ বিমান হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন সম্পন্ন হওয়ার দিনেই (বৃহস্পতিবার) দুই দেশের তিন সপ্তাহ পুরোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি ভেঙে যায়। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকায় মার্কিন হামলার জবাবে ইরানও উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। এছাড়া ইরানের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকা বুশেহর শহরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রাতভর দফায় দফায় রহস্যময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।এই নতুন সংঘাতের ফলে ওমান উপকূলের কাছে ওমানি জলসীমায় কাতারের একটি এলএনজি বাহী জাহাজে ইরানের হামলার পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক ট্যাংকার চলাচল সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে। উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে বিশ্ববাজারের দৈনিক মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই সম্পন্ন হতো। জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকির কারণে জাহাজ মালিকরা এই রুট ব্যবহারে চরম সতর্কতা অবলম্বন করছেন।এতো বড় সামরিক উত্তেজনার পরও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বুধবার সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, তিনি মনে করেন না যে এই নতুন লড়াইয়ের কারণে পূর্ণাঙ্গ কোনো যুদ্ধ শুরু হবে। তাঁর ভাষায়, “যা-ই ঘটুক না কেন, তা খুব দ্রুতই শেষ হয়ে যাবে।”এ প্রসঙ্গে এএনজে ব্যাংকের সিনিয়র কমোডিটি স্ট্র্যাটেজিস্ট ড্যানিয়েল হাইনস বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা জোরদার করলেও ট্রাম্প প্রশাসন এখন পর্যন্ত ইরানের মূল জ্বালানি অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা থেকে বিরত রয়েছে। ট্রাম্পের এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত এবং পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ না হওয়ার ব্যাপারে তাঁর ইতিবাচক মন্তব্য বিশ্ব তেলের বাজারকে বড় ধরনের বিপর্যয় বা আকস্মিক মূল্যস্ফীতি থেকে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে।”
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল