প্রিন্ট এর তারিখ : ০৯ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুলাই ২০২৬
বেনাপোল কাস্টমসে রাজস্ব ঘাটতি ৪,৭৩১ কোটি টাকা
সুমাইয়া জাবির , ন্যাশনাল ডেস্ক এডিটর ||
দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল কাস্টমস হাউস সদ্য সমাপ্ত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সংশোধিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। আমদানি হ্রাস, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে স্থবিরতা এবং কাস্টমস ব্যবস্থাপনায় ওজন স্কেলে কারচুপি, শুল্ক ফাঁকি, অঘোষিত আমদানি ও শেড থেকে পণ্য চুরির মতো নানাবিধ অনিয়মের কারণে এই বিশাল ঘাটতি তৈরি হয়েছে। চলতি অর্থবছরে বেনাপোল কাস্টমসের সংশোধিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১১,২৯০ কোটি টাকা। তবে কাস্টমসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এর বিপরীতে প্রকৃত রাজস্ব আদায় হয়েছে মাত্র ,৫৫৯ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪,৭৩১ কোটি টাকা কম। এর আগের ২০২২-২৩ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ছিল ৭,০২৯.৩৮ কোটি টাকা।কাস্টমস কর্মকর্তারা রাজস্ব ঘাটতির পেছনে বৈশ্বিক বাণিজ্যের মন্দা এবং শুল্ক কাঠামোর পরিবর্তনকে দায়ী করলেও তথ্য বলছে, বন্দর দিয়ে আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে যেখানে ১.৬০ মিলিয়ন টন পণ্য আমদানি হয়েছিল, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১.৪০ মিলিয়ন টনে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আমদানি কমেছে প্রায় ১ লাখ ৯৭ হাজার টন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ফল, শাড়ি এবং থ্রি-পিসের মতো উচ্চ শুল্কযুক্ত পণ্য আমদানির পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়া এই সামগ্রিক ঘাটতির অন্যতম প্রধান কারণ।ব্যবসায়ী নেতা ও আমদানিকারকদের অভিযোগ, বেনাপোলে একটি সুসংগঠিত সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে মিথ্যা ঘোষণা, ওজন এবং শুল্ক ছাড়ের অপব্যবহার করে কোটি কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে। সাফটা সুবিধার আওতায় আমদানি শুল্কের হার ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে লক্ষ্যণীয় পর্যায়ে পৌঁছানোয় শুল্ক ফাঁকির প্রবণতা আরও বেড়েছে। কম শুল্কের পণ্যের নাম ঘোষণা করে উচ্চ শুল্কের দামী পণ্য খালাস করার চেষ্টা করছে এই চক্র। সম্প্রতি বেনাপোল কাস্টমসের সহকারী কমার্স কমিশনারের একটি চিঠিতে ডিজিটাল ওয়েইব্রিজে একই সময়ে একই ট্রাকের দুটি ভিন্ন শূন্য-ওজন রেকর্ড জেনারেটের জালিয়াতি সামনে আসে, যা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।বিগত চার মাসে শুল্ক ফাঁকি, পণ্য চুরি এবং নিরাপত্তা লঙ্ঘনের অভিযোগে ৪টি পৃথক মামলায় অজ্ঞাতনামাসহ মোট ৫৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে বেকিং পাউডারের আড়ালে কোটি কোটি টাকার শাড়ি চুরি, ইরেজার ও পেন্সিল ঘোষণার আড়ালে অবৈধ পণ্য আমদানি এবং ভুয়া এন্ট্রি পাস ব্যবহার করে রাসায়নিক পণ্য চুরির মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনা রয়েছে। কসমেটিকস ও শাড়ি চোরাচালানের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ মুখার্জিকে আটকসহ বেশ কয়েকজন কাস্টমস সিপাহীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সময়ে অনিয়মে জড়িত থাকার দায়ে ৯টি ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্টের লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।যশোর চেম্বার অব কমার্সসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো বেনাপোল স্থলবন্দরের রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সার্বক্ষণিক প্রযুক্তিভিত্তিক নজরদারি জোরদার এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। বেনাপোল ল্যান্ড পোর্ট ডিরেক্টর শামীম হোসেন জানিয়েছেন, ওয়েইব্রিজ কারচুপির বিষয়টিকে তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন এবং এর জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার মো. ফয়জুর রহমান স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে রাজস্ব ফাঁকির সাথে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং ওজন স্কেলে কারচুপি বা মিথ্যা ঘোষণার প্রমাণ মিললে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি কঠোর ফৌজদারি আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল