প্রিন্ট এর তারিখ : ০৮ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুলাই ২০২৬
প্রাথমিক ও জরুরি চিকিৎসা হবে বিনামূল্যে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী
সুমাইয়া জাবির , ন্যাশনাল ডেস্ক এডিটর ||
দেশের সব নাগরিকের জন্য প্রাথমিক ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা বিনামূল্যে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি জানান, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে সাধারণ অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসার পাশাপাশি হোমিওপ্যাথি, ইউনানি ও আয়ুর্বেদ চিকিৎসা ব্যবস্থার সমান্তরাল উন্নয়ন ও বিকাশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার।আজ বুধবার (৮ জুলাই) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে ইউনানী আয়ুর্বেদিক গ্রাজুয়েট ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আগড্যাব) আয়োজিত “সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গঠনে আয়ুর্বেদিক ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার ভূমিকা” শীর্ষক কর্মশালা ও চিকিৎসক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ শুধু অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসকদের জন্য নয়; বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতির চিকিৎসকদেরও যথাযথ মূল্যায়ন ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করতে হবে।’ তিনি অতীত ইতিহাস স্মরণ করে উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে প্রথম হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতিকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও এই খাতের প্রসারে ভূমিকা রেখেছিলেন। তবে মাঝের সময়ে ধারাবাহিকতা বজায় না থাকায় এই খাতের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছেন। একটি গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক সরকার হিসেবে এই সমস্যার সমাধান করা বর্তমান সরকারের অন্যতম দায়িত্ব বলে তিনি মন্তব্য করেন।মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, একটি কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা শুধু চিকিৎসকদের ওপর নির্ভর করে চলে না। এর জন্য নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফিজিওথেরাপিস্ট, অকুপেশনাল থেরাপিস্ট, স্পিচ থেরাপিস্ট ও রেডিওথেরাপিস্টসহ বিভিন্ন পেশার দক্ষ জনবল প্রয়োজন। একই সাথে সমাজের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্যও বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত জনশক্তি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সরকারের অগ্রাধিকারের কথা উল্লেখ করে ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য সবার জন্য সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা। প্রাথমিক ও জরুরি চিকিৎসা সবার জন্য ফ্রি থাকবে। বিশেষায়িত চিকিৎসার ক্ষেত্রে যাদের সামর্থ্য আছে তারা ব্যয় বহন করবেন, আর অসচ্ছল নাগরিকদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় রাষ্ট্র বহন করবে।’ এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই চলতি অর্থবছরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।শ্রমিকের অধিকারের বিষয়ে ইসলামের নির্দেশনা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘কাজ করে কেউ বেতন পাবেন না, এটা হতে পারে না। শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার প্রাপ্য পরিশোধ করতে হবে। তাই হোমিওপ্যাথি ও আয়ুর্বেদ প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করা হবে।’ পাশাপাশি এই চিকিৎসা পদ্ধতিগুলোতে উচ্চশিক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণার সুযোগ বাড়ানোর তাগিদ দেন তিনি, যাতে মানুষের আস্থা বৃদ্ধি পায় এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়। এই প্রসঙ্গে তিনি হামদর্দের মতো সফল প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা ও চিকিৎসাপদ্ধতির মানোন্নয়নকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান আরবান হেলথ কেয়ার সেন্টারগুলোতে হোমিওপ্যাথি ও আয়ুর্বেদ সেবা চালু করার দাবির বিষয়ে স্বাস্থ্য প্রশাসনের সাথে আলোচনার আশ্বাস দেন।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল