প্রিন্ট এর তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬
ফ্যাসিস্ট সরকারে জড়িত কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারকে দীর্ঘস্থায়ী করতে প্রশাসনের যেসব কর্মকর্তা সরাসরি ভূমিকা রেখেছেন, তাদের সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান। প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে যারা প্রকাশ্যে ওই সরকারকে দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য কাজ করেছেন, তাদের চিহ্নিত করতে সরকারের বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা বর্তমানে কাজ করছে। তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামানের প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী জানান, ৩০ জুন ২০২৫ পর্যন্ত সরকারি চাকরিতে মোট ১৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। বর্তমানে প্রশাসনে শূন্য পদের সংখ্যা ৫ লাখ ২১ হাজার ৯২২টি। এর মধ্যে বিভিন্ন ক্যাডারে মোট ৮ হাজার ৯৯টি পদ শূন্য রয়েছে বলে তিনি কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্যের অপর এক প্রশ্নের জবাবে জানান।তিনি প্রশাসনের শীর্ষ পদগুলোর একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে বলেন, সচিব বা সিনিয়র সচিবের ৬৯টি পদের বিপরীতে ৬৭ জন, অতিরিক্ত সচিবের ৩৭৮টি পদের বিপরীতে ৩৬৮ জন, যুগ্ম সচিবের ১ হাজার ১১৬টি পদের বিপরীতে ৮৯৩ জন এবং উপসচিবের ২ হাজার ২৪৫টি পদের বিপরীতে ২ হাজার ৯৪০ জন কর্মকর্তা বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন।সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বিসিএসে নিয়োগের সুপারিশ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সময় আগের চেয়ে ক্রমেই কমে আসছে। পরিসংখ্যান টেনে তিনি বলেন, ৪৪তম বিসিএসের সময় ৩ বছর ৭ মাস লাগলেও ৪৫তম বিসিএসে ২ বছর ১১ মাস ২৭ দিন এবং ৪৬তম বিসিএসের ক্ষেত্রে ২ বছর ২ মাস ৯ দিন সময় লেগেছে। এমনকি ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাত্র ১ বছর ৭ মাসের মধ্যে। সরকার আগামী ৫০তম বিসিএসের ফলাফল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ১ বছরের মধ্যে প্রকাশ করার বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।তিনি আরও জানান, পদোন্নতি একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং দক্ষ ও যোগ্য কর্মকর্তাদের সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে যথাসময়ে পদোন্নতি দেওয়া হয়। হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, সরকারি চাকরিতে বর্তমানে নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীর হার ২৯ শতাংশ।নেত্রকোনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হেলালীর প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, জনপ্রশাসনে নিয়োগ, বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে সব ধরনের রাজনৈতিক বা অন্যায্য প্রভাবমুক্ত রেখে কেবল মেধা, সততা ও দক্ষতাকে একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করার নীতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।গাইবান্ধা-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল করিমের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাময়িক বরখাস্তসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং বিভাগীয় মামলার মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া হয়। এই সমস্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ডসিয়ারে সংরক্ষণ করা হয়, যা পরবর্তী সময়ে পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হয়।তিনি আরও জানান, ২৫-২৬ অর্থবছরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা ও তদন্ত অনুবিভাগের উদ্যোগে ৬টি বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের মাধ্যমে ১৮০ জন কর্মকর্তাকে শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও পদস্খলনের পরিণতি বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এ ধরনের আরও ৮টি প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে এবং বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের প্রতিটি বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ কোর্সে দুর্নীতি প্রতিরোধ, নৈতিকতা ও শিষ্টাচার বিষয়ক পাঠ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল