প্রিন্ট এর তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬
গাজায় ইসরাইলি গণহত্যার ১,০০০ দিন
আহমেদ রিয়াদ , নিউজ এডিটর ||
]গাজায় ইসরাইলের চালানো নৃশংস ও গণহত্যামূলক যুদ্ধের ১,০০০ দিন পূর্ণ হয়েছে। গাজার সরকারি মিডিয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এই দীর্ঘ সময়ে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার ৯০ শতাংশেরও বেশি এলাকা সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে তথাকথিত 'সবুজ সংকেত' বা যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর থেকে গত ৬ জুলাই পর্যন্ত নতুন করে আরও ১,০৭২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর ফলে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে গাজায় মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৩,০৯৮ জনে।হৃদয়বিদারক এই ১,০০০ দিন পূর্তির সময়টাতেও গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর হামলা ও রক্তপাত এক মুহূর্তের জন্য থামেনি। গত ১ জুলাই আল-হিলু স্টেশনের কাছে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় অন্তত ৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হন। এর পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় আরও অন্তত ৭ জন প্রাণ হারান। স্থানীয় মাঠ পর্যায়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে শুজাইয়া মোড়ে কোয়াডকপ্টার থেকে ফেলা বোমায় এক শিশু এবং খান ইউনিসের কাছে ১০ বছর বয়সী শিশু তারেক সাবাহ রয়েছে। এছাড়া এই সপ্তাহে তথাকথিত নিরাপদ ও মানবিক অঞ্চল হিসেবে ঘোষিত 'আল-মাওয়াসি' এলাকায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের তাঁবু লক্ষ্য করে একাধিকবার বিমান হামলা চালানো হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:1983গাজার ধ্বংসপ্রাপ্ত হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় অসুস্থ ও আহত ফিলিস্তিনিরা গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতালের বাইরে এক বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করেন। চিকিৎসা সহায়তার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার ওপর ইসরাইল যে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে, তা দ্রুত তুলে নেওয়ার দাবি জানান তারা। গাজা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে অবরুদ্ধ ও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত রাফাহ ক্রসিং দিয়ে চিকিৎসার জন্য বাইরে যাওয়ার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন ২০ হাজারেরও বেশি গুরুতর অসুস্থ মানুষ।গাজার কামাল আদওয়ান হাসপাতালের পরিচালক ড. হুসাম আবু সাফিয়ার ছেলে ইলিয়াস আবু সাফিয়া জানিয়েছেন যে ইসরাইলি কারাগারে ৫৫৫ দিনেরও বেশি সময় ধরে বন্দী থাকা তাঁর বাবার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হয়েছে। গত রবিবার এক বিবৃতিতে ইলিয়াস জানান, সম্প্রতি তাঁর বাবার আইনজীবী কারাগার পরিদর্শনের পর জানিয়েছেন যে ড. হুসাম বর্তমানে ঠিকমতো শ্বাস নিতে এবং কথা বলতে পারছেন না। জেরুজালেমে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ আদালতের শুনানির পর ড. হুসামের মুখে তীব্র নির্যাতন ও কষ্টের স্পষ্ট ছাপ দেখা গেছে। এদিকে জাতিসংঘের 'আর্বিট্রেটি ডিটেনশন' বিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপ ড. আবু সাফিয়াকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এবং তাঁর এই দীর্ঘায়িত বন্দিদশাকে সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণার চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল