প্রিন্ট এর তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৬
কান্নায় ভেজা বিদায়, ব্রাজিলের জার্সি খুলে রাখলেন নেইমার
স্পোর্টস ডেস্ক ||
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ২৫তম দিনে ফুটবল বিশ্ব দেখল এক চরম নাটকীয়তা। একদিকে পরাশক্তি ব্রাজিলের বিশ্বকাপ থেকে করুণ বিদায়, অন্যদিকে সেলেসাওদের পোস্টার বয় নেইমার জুনিয়রের আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা। সোমবার (৬ জুলাই) নকআউট পর্বের শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ মিশন শেষ করেছে ব্রাজিল, যা ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপে দলটির সবচেয়ে দ্রুততম ও বাজে বিদায়।ষোলোর লড়াইয়ে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ম্যাচের প্রথমার্ধে মাঠের নিয়ন্ত্রণ মূলত ব্রাজিলের হাতেই ছিল। কিন্তু নরওয়েজিয়ান গোলরক্ষক ওরিয়ান নিল্যান্ড প্রথমার্ধে ব্রুনো গিমারেসের একটি দুর্দান্ত পেনাল্টি শট রুখে দিয়ে নরওয়েকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন।ম্যাচের ৬৭তম মিনিটে যখন বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নেইমার মাঠে নামেন, তখন ব্রাজিল ২-০ গোলে পিছিয়ে। নরওয়েকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলতে মূল ভূমিকা রাখেন তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হল্যান্ড, যাঁর দুর্দান্ত জোড়া গোল সেলেসাওদের স্তব্ধ করে দেয়। ম্যাচের একদম শেষ দিকে যোগ করা সময়ে (ইনজুরি টাইম) পেনাল্টি থেকে নেইমার একটি গোল করে ব্যবধান ২-১ করলেও তা কেবল সান্ত্বনাসূচক গোল হিসেবেই গণ্য হয়েছে, ব্রাজিলের হার এড়াতে পারেনি। কার্লো আনচেলত্তির অধীনে নতুন যুগের সূচনা করলেও ইউরোপীয় দলগুলোর কাছে টানা box বার বিশ্বকাপে নকআউট হওয়ার তিক্ত রেকর্ড অক্ষুণ্ণ রাখল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।ম্যাচ শেষে মাঠের ভেতরেই কান্নায় ভেঙে পড়েন সান্তোসে খেলা এই ফরোয়ার্ড। পরে ব্রাজিলের গ্লোভো টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে নেইমার বলেন, “বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নের ইতি ঘটেছে। আমি চেষ্টা করেছি, সত্যিই চেষ্টা করেছি। এখন সব শেষ। এখানেই আমার শুরু হয়েছিল, এখানেই শেষ হলো।”নেইমারের এই মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিদায় নেওয়ার বিষয়টি এক অদ্ভুত আবেগঘন কাকতালীয় ঘটনা। ২০১০ সালের আগস্ট মাসে এই একই স্টেডিয়ামে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে ব্রাজিলের জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হয়েছিল এই মহাতারকার। দীর্ঘ ১৬ বছর পর সেই চেনা মাঠেই কান্নাভেজা চোখে বিদায়ের ঘোষণা দিলেন তিনি। চারটি বিশ্বকাপ খেলেও শিরোপা জিততে না পারা দ্বিতীয় ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার হলেন নেইমার, তাঁর আগে একই তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছিলেন থিয়াগো সিলভা।নেইমার ‘সব শেষ’ বলার মাধ্যমে যদি আনুষ্ঠানিক অবসর ঘোষণাই বুঝিয়ে থাকেন, তবে ব্রাজিলের জার্সিতে এক রূপকথার অধ্যায়ের অবসান ঘটল। সেলেসাওদের হয়ে ১৩০ ম্যাচে রেকর্ড ৮০টি গোল করেছেন তিনি, যা কিংবদন্তি পেলেকেও ছাড়িয়ে গেছে। এর পাশাপাশি দেশের হয়ে সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৫৮টি গোল। ব্রাজিলের ইতিহাসে ডিফেন্ডার কাফুর (১৪২ ম্যাচ) পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ডও এখন তাঁর দখলে।জাতীয় দলের হয়ে তাঁর একমাত্র ট্রফি ছিল ২০১৩ সালের কনফেডারেশনস কাপ। এ ছাড়া ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকে অনূর্ধ্ব–২৩ দলকে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি জিতেছিলেন ঐতিহাসিক স্বর্ণপদক।২০২৩ সালের পর মারাত্মক ইনজুরির কারণে দীর্ঘদিন ব্রাজিলের জার্সি গায়ে চাপানোর সুযোগ পাননি নেইমার। এই বিশ্বকাপ আসরকে সামনে রেখেই তিনি জাতীয় দলে পুনর্বাসিত হন। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে এবং নরওয়ের বিপক্ষে এই নকআউট ম্যাচ—সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপে মাত্র দুটি ম্যাচ খেলতে পেরেছিলেন তিনি। নেইমারের এই প্রস্থান এবং ব্রাজিলের বিদায়ের ফলে ২০৩০ বিশ্বকাপে পৌঁছাতে পৌঁছাতে সেলেসাওদের শিরোপাখরা দাঁড়াবে দীর্ঘ ২৮ বছরে, যা ১৯৫৮ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ জয়ের পর ব্রাজিলের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘতম ট্রফিহীন সময়।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল