প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুলাই ২০২৬
কার্বন ক্রেডিট বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
দেশে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে কার্বন ক্রেডিট বাড়ানোর সম্ভাবনা এবং এ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ঠিক করতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে পরিবেশ রক্ষা ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সংশ্লিষ্ট সব খাতকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। আজ রবিবার (৫ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক এক বিশেষ সভায় তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেসসচিব হাসান শিপলু গণমাধ্যমকে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধানমন্ত্রী নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, শিল্প খাতে পরিবেশবান্ধব উন্নত প্রযুক্তির প্রয়োগ, সার্বিক জ্বালানি দক্ষতা উন্নয়ন এবং ব্যাপক বনায়নের মাধ্যমে কার্বন শোষণ বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক কার্বন বাজারে বাংলাদেশের যে বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে, তাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে হলে আমাদের অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এর পাশাপাশি কার্বন ক্রেডিট ব্যবস্থাপনায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ, একটি নির্ভরযোগ্য ও আধুনিক তথ্যভাণ্ডার (ডাটাবেজ) গড়ে তোলা এবং বৈশ্বিক জলবায়ু সংস্থাগুলোর সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় বাড়ানোর তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী।জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা ও অর্থনৈতিক সুবিধা অর্জনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে কাজের গতিশীলতা বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাৎক্ষণিকভাবে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সমন্বয় কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। সভায় উপস্থিত মন্ত্রী ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করে বলেন, দেশে কার্বন নিঃসরণ কমাতে পরিবেশবান্ধব প্রকল্পগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বাংলাদেশের কার্বন ক্রেডিট অর্জনের সুযোগ বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের টেকসই উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।উল্লেখ্য, কার্বন ক্রেডিট হলো বিশ্বজুড়ে পরিবেশ সুরক্ষার একটি আন্তর্জাতিক আর্থিক স্বীকৃত ব্যবস্থা, যেখানে বায়ুমণ্ডলে এক মেট্রিক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড বা সমপরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমানো বা অপসারণের বিপরীতে একটি ক্রেডিট দেওয়া হয়। অন্যদিকে, কার্বন ট্রেডিং হলো একটি আন্তর্জাতিক বাজারভিত্তিক ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রমকারী উন্নত দেশ বা বড় কোম্পানিগুলো বনায়ন ও পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তির মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমানো উন্নয়নশীল দেশগুলোর কাছ থেকে এই ক্রেডিট কিনে নেয়। বাংলাদেশ এই বাজারে প্রবেশ করতে পারলে জলবায়ু তহবিলের পাশাপাশি বড় অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথ সুগম হবে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল