প্রিন্ট এর তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুলাই ২০২৬
ভবিষ্যতের কর্মবাজারে বাংলাদেশ কতটা প্রস্তুত
ইয়াসরির মাহবুব, স্টাফ রিপোর্টার ||
বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক উত্থান গড়েছে শ্রমঘন উৎপাদন খাতের ওপর ভর করে। কিন্তু কর্মসংস্থানের এই মডেল এখন ক্রমশ চাপের মুখে পড়ছে। অটোমেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও পরিবর্তনশীল উৎপাদন ব্যবস্থা কর্মক্ষেত্রের ভবিষ্যৎকে নতুন আকার দিচ্ছে। এই পরিবর্তন এমন এক সময় আসছে, যখন বাংলাদেশের বিপুল অংশ ইতিমধ্যে নিরাপদ ও উৎপাদনশীল কর্মসংস্থানের বাইরে রয়ে গেছে। প্রায় ৪০ শতাংশ কর্মী অটোমেশন ও এআই-জনিত প্রভাবের মুখে পড়তে পারে।দেশের শ্রমবাজার ইতিমধ্যেই চাপের মধ্যে রয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে প্রায় ১৩ লাখ চাকরি কমেছে, যার ৯০ শতাংশই নারীদের। নতুন সরকার পাঁচ বছরে ১ কোটি চাকরি সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তবে প্রশ্ন হলো—কী ধরনের চাকরি তৈরি হবে? বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা থেকে উৎপাদিত দক্ষতা ও শ্রমবাজারের চাহিদার মধ্যে রয়েছে বড় ব্যবধান। কারিগরি শিক্ষা এখনও সমাজে অবহেলিত, সেকেলে এবং শিল্পের সঙ্গে দুর্বলভাবে সংযুক্ত। রপ্তানি খাতের ঋণ, বিশেষ করে তৈরি পোশাত খাতে প্রতিযোগিতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অটোমেশনের দিকে ঝোঁক বাড়বে।নারী, তরুণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। বিশেষ করে রুটিননির্ভর তৈরি পোশাক খাতের নারী কর্মীরা, যারা উচ্চশিক্ষার পরও কর্মসংস্থানের বাইরে থাকা তরুণরা এবং অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করা প্রতিবন্ধীরা পুনঃদক্ষতা অর্জনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত। প্ল্যাটফর্মভিত্তিক ও ডিজিটাল কাজ নতুন সুযোগ তৈরি করলেও সেই সুযোগ সবার জন্য সমান নয়।বর্তমান নীতিমালা এই পরিবর্তন মোকাবিলায় অপ্রস্তুত। শিক্ষাব্যবস্থায় এআই, অটোমেশন ও ডিজিটালাইজেশন পর্যাপ্তভাবে অন্তর্ভুক্ত নয়। গিগ ইকোনমি পরিচালনার জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট কাঠামো নেই এবং প্ল্যাটফর্ম কর্মীদের জন্য সামাজিক সুরক্ষার ব্যবস্থা সীমিত। কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নে বাজেট জিডিপির মাত্র ১.৩ শতাংশ, যা যথেষ্ট নয়। বাংলাদেশের শ্রমবাজার তথ্য ব্যবস্থা দুর্বল, যা দক্ষতার চাহিদা ও কর্মসংস্থানের প্রবণতা নিরূপণে বাধা সৃষ্টি করে।লেখকরা সুপারিশ করেছেন: শিক্ষা ও দক্ষতা খাতের সংস্কার, যেখানে টিভিইটিকে শিল্প-নেতৃত্বাধীন ও ফলাফলভিত্তিক করতে হবে। পেশাগত জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে পুনঃদক্ষতা প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। শিল্প সহায়তা কর্মসংস্থানের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করতে হবে এবং রপ্তানি নীতিতে চাকরি সৃষ্টির শর্ত যুক্ত করতে হবে। এ ছাড়া, প্ল্যাটফর্ম ও গিগ কর্মীদের জন্য একটি শাসন কাঠামো তৈরি করতে হবে, যাতে তাদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত হয়।বাংলাদেশের শ্রমবাজার এখন এক টার্নিং পয়েন্টে। কাঠামোগত দুর্বলতা গভীর, কর্মক্ষেত্র পুনর্গঠনের শক্তি বাড়ছে এবং নীতি-প্রতিক্রিয়া এখনও খণ্ডিত। লেখকরা মনে করছেন, অর্থপূর্ণ পরিবর্তনের জন্য টেকসই রাজনৈতিক ইচ্ছা ও জাতীয় ঐকমত্য প্রয়োজন। প্রাথমিক শিক্ষায় সর্বজনীন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা বা টিকাদান কর্মসূচির সাফল্যের মতো টেকসই অঙ্গীকারের মাধ্যমেই ভবিষ্যতের কর্মবাজারের জন্য প্রস্তুতি সম্ভব।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল