প্রিন্ট এর তারিখ : ০৪ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুলাই ২০২৬
এটিইউ-সিটিটিসির নতুন নাম, বাড়ছে কাজের পরিধিও
সুমাইয়া জাবির , ন্যাশনাল ডেস্ক এডিটর ||
বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত দুটি সন্ত্রাসবিরোধী সংস্থা—অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) এবং কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের নাম পরিবর্তনসহ তাদের কাজের পরিধি আরও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে পুলিশের ভেতরেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একাংশের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, অতিরিক্ত দায়িত্বের চাপে জঙ্গিবাদ দমনে গঠিত এই বিশেষায়িত ইউনিটগুলোর মূল লক্ষ্য ও কার্যকারিতা শেষ পর্যন্ত দুর্বল হয়ে যেতে পারে।পুলিশ সদর দপ্তর (পিএইচকিউ) গত ৭ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে এটিইউর নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট (এসএসইউ)’ করার অনুমোদন চেয়েছে। তাদের যুক্তি, দেশে ও বিদেশে নিরাপত্তা হুমকির ধরন দ্রুত পাল্টাচ্ছে। সহিংস উগ্রবাদের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইন্টারনেটের বিস্তার ও তথ্যের দ্রুত প্রবাহের কারণে তৈরি হওয়া নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও বিস্তৃত সাংগঠনিক কাঠামো প্রয়োজন।এরই ধারাবাহিকতায় গত ৮ জুন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের কাছে পাঠানো আরেকটি চিঠিতে ডিএমপির বিশেষায়িত ইউনিট ‘সিটিটিসি’র নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট-ডিএমপি (এসএসইউ-ডিএমপি)’ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।পুলিশ সদর দপ্তরের দাবি, নতুন নামে কাজ শুরু করলে অতীতে বিভিন্ন অভিযানের সঙ্গে যুক্ত হওয়া বিতর্ক বা প্রশ্নবিদ্ধ অভিযোগের ইমেজ থেকে সংস্থাগুলো বেরিয়ে আসতে পারবে, যা জনআস্থা পুনর্গঠনে বড় ভূমিকা রাখবে। এছাড়া ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট’ নামটি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত হওয়ায় বিদেশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান ও দেশের অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা সহজ হবে। এই পুনর্গঠনে সরকারের অতিরিক্ত কোনো অর্থ ব্যয় হবে না বলেও জানানো হয়েছে।২০১৬ সালে ঢাকার গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর দেশব্যাপী বিশেষায়িত সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালনার লক্ষ্যে এটিইউ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং ২০১৭ সালের ৭ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে এর যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে এই ইউনিটে ৬২০ জন অনুমোদিত জনবল রয়েছে।পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক স্বাক্ষরিত প্রস্তাবে বলা হয়েছে, উগ্রবাদী ও জঙ্গি সংগঠনগুলো এখন আরও আধুনিক ও ডিজিটাল কৌশলে হামলার পরিকল্পনা, অর্থায়ন ও স্লিপার সেল পরিচালনা করছে। তারা ধর্মের বিকৃত ব্যাখ্যা ব্যবহার করে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল মানুষকে দলে টানছে এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে গুজব ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এই পরিবর্তিত হুমকি মোকাবিলা করতেই এটিইউকে স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিটে (এসএসইউ) রূপান্তরের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা শুধু জঙ্গিবাদই নয়, দেশের সামগ্রিক অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, জাতীয় স্থিতিশীলতা ও জননিরাপত্তা রক্ষায় বিস্তৃত ভূমিকা পালন করবে।এই নতুন উদ্যোগের বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) এএইচএম শাহাদাত হোসেন জানান, ইউনিটগুলোর কার্যকারিতা আরও শক্তিশালী করতেই এই পুনর্গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং তাদের মূল নিরাপত্তাসংক্রান্ত দায়িত্ব বহাল থাকবে।তবে এই নাম পরিবর্তন ও পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়ে এটিইউ ও সিটিটিসির ভেতরে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই ইউনিটের দুজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য ও বিশেষায়িত কাজের জন্য গঠিত সংস্থার ওপর যদি নানামুখী অতিরিক্ত দায়িত্ব চাপানো হয়, তবে তাদের মূল কাজ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।সিটিটিসির এক কর্মকর্তা মন্তব্য করেন, শুধু নাম পরিবর্তন করলে হয়তো তাৎক্ষণিকভাবে বর্তমান দায়িত্ব বদলাবে না; কিন্তু ভবিষ্যতে যখনই এর অধীনে অতিরিক্ত ভিন্নধর্মী কাজের চাপ দেওয়া হবে, তখন জঙ্গিবাদ ও সহিংস উগ্রবাদ দমনে এই বিশেষায়িত ইউনিটগুলোর যে দীর্ঘদিনের দক্ষতা ও সক্ষমতা, তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল