প্রিন্ট এর তারিখ : ০৩ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুলাই ২০২৬
চার মাস পর খামেনি হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানাল বাংলাদেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর শুধু ‘শোক ও দুঃখ’ প্রকাশ করলেও, ঘটনার চার মাস পর শেষকৃত্যের সময়ে এসে তাঁর হত্যাকাণ্ডের আনুষ্ঠানিক নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার (৩ জুলাই) তেহরানে ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সাক্ষাতে বাংলাদেশের এই পরিবর্তিত অবস্থান তুলে ধরেন তেহরান সফররত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।দুই স্পিকারের বৈঠকের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘মহামান্য’ আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ‘মর্মান্তিক মৃত্যুতে’ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন এবং তাঁর এই ‘নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নিন্দা’ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে জাতীয় শোকের এই কঠিন সময়ে ইরানের সরকার ও জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করেন তিনি।চলতি বছরের গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলার শুরুতে নিজ বাসভবনে সপরিবারে নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি। হামলার পরদিন বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া প্রথম বিবৃতিতে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোর ‘সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের’ নিন্দা জানানো হলেও, কৌশলগত কারণে তাতে ইরান বা খামেনির নাম উল্লেখ করা হয়নি। পরবর্তীতে ২ মার্চ ঢাকা আরেকটি বিবৃতিতে খামেনির মৃত্যুতে ‘মর্মাহত’ হওয়ার কথা জানালেও সেখানে ‘হত্যাকাণ্ডের নিন্দা’ শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করা এড়ানো হয়।সরকারের এই প্রাথমিক অবস্থান দেশের অভ্যন্তরে এবং কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রাহিমি জাহানাবাদী সে সময় মন্তব্য করেছিলেন, তেহরান ঢাকার কাছে কোনো যুদ্ধের রসদ চায় না, কেবল আক্রান্ত দেশ হিসেবে নীতিগত সমর্থন চায়। পরবর্তীতে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে খামেনির মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব আনা হয়।শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়, বৈঠকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন ইরান ও বাংলাদেশের মধ্যেকার কয়েক শতাব্দীর ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব এবং গভীর সাংস্কৃতিক বন্ধনের কথা স্মরণ করেন। পাশাপাশি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের ক্ষেত্রে ইরানি স্পিকার কলিবফের গঠনমূলক ভূমিকার সাধুবাদ জানান এবং আশা প্রকাশ করেন যে, এই চুক্তি পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা বয়ে আনবে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন এ সময় ইরানি স্পিকারকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।উল্লেখ্য, প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতাকে শেষ বিদায় জানাতে ইরান সরকার ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। শুক্রবার তেহরানের ইমাম খোমেনি মুসাল্লায় খামেনির মরদেহ রাখা হয়েছে, যেখানে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপির নেতৃত্বে বাংলাদেশের বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ও ১১ দলীয় জোটের প্রতিনিধিরা গিয়ে কফিনের সামনে দোয়া-মোনাজাত করেছেন।আগামীকাল শনিবার (৪ জুলাই) বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে তেহরানে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। সোমবার তেহরানে প্রধান শোকযাত্রার পর খামেনিসহ একই হামলায় নিহত তাঁর মেয়ে, জামাতা, পুত্রবধূ ও নাতনির মরদেহ শিয়া ধর্মীয় কেন্দ্র 'কোম' এবং প্রতিবেশী দেশ ইরাকের নাজাফ ও কারবালা শহরে নিয়ে যাওয়া হবে। আগামী বৃহস্পতিবার ইরানের মাশহাদ শহরে হযরত ইমাম রেজার মাজারে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল