প্রিন্ট এর তারিখ : ০৩ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুলাই ২০২৬
ফরিদপুরে একসঙ্গে ৫ সন্তানের জন্ম, ৪ নবজাতকের মৃত্যু
ইয়াসরির মাহবুব, স্টাফ রিপোর্টার ||
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একসঙ্গে পাঁচটি নবজাতক সন্তানের জন্ম দিয়েছেন চাঁদনী বেগম (২২) নামে এক মা। তবে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগে অর্থাৎ মাত্র সাড়ে ছয় মাস বা ২৮ সপ্তাহে জন্ম নেওয়ায় চরম স্বাস্থ্য জটিলতা ও অত্যন্ত কম ওজনের কারণে পাঁচ নবজাতকের মধ্যে চারজনই মারা গেছে। বর্তমানে একটিমাত্র ছেলে সন্তান মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।পারিবারিক ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের ভবুকদিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং সিঙ্গাপুর প্রবাসী হওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া মাহামুদুল হাসান ডলারের (৩০) স্ত্রী চাঁদনী বেগমকে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে হাসপাতালে আনা হয়। এরপর বিকেল ৫টা ২০ মিনিট থেকে ৫টা ৫০ মিনিটের মধ্যে কোনো ধরনের অস্ত্রোপচার (সিজার) ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বাভাবিকভাবে (নরমাল ডেলিভারি) একে একে পাঁচটি শিশু ভূমিষ্ঠ হয়। জন্ম নেওয়া শিশুদের মধ্যে তিনটি ছেলে এবং দুটি মেয়ে সন্তান ছিল।হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডের জ্যেষ্ঠ নার্স মিনতি সরকার জানান, প্রথম বাচ্চা প্রসবের পর মাত্র ৩০ মিনিটের ব্যবধানে বাকি ৪টি বাচ্চা প্রসব করেন ওই মা। স্বাভাবিকভাবে ৪০ সপ্তাহে সন্তান প্রসব হওয়ার কথা থাকলেও এই শিশুগুলো মাত্র ২৮ সপ্তাহে জন্ম নেয়।চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের আগে জন্ম নেওয়ায় শিশুগুলোর ওজন ছিল মাত্র ৫০০ গ্রাম থেকে ৭০০ গ্রামের মধ্যে। নবজাতক ও শিশু ওয়ার্ডের শিক্ষানবিশ (ইন্টার্ন) চিকিৎসক প্রীতিরাজ পাল চৌধুরী বলেন, হাসপাতালে আনার সময় পাঁচটি বাচ্চাই জীবিত ছিল। তবে ৭০০-৮০০ গ্রাম ওজনের নবজাতক মূলত অত্যন্ত কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণকারী (এক্সট্রিমলি লো বার্থ ওয়েট) শিশু শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।এই ধরনের শিশুদের বেঁচে থাকার জন্য নিবিড় নবজাতক পরিচর্যা কেন্দ্রের (এনআইসিইউ) জরুরি প্রয়োজন হয়। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পর্যাপ্ত এনআইসিইউ সুবিধা না থাকায় চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে শিশুদের জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু স্বজনেরা আর্থিক বা অন্য কোনো কারণে তা নেননি।হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স রিয়া বিশ্বাস আজ শুক্রবার সকালে নিশ্চিত করেন, বৃহস্পতিবার রাতের বিভিন্ন সময়ে একে একে চার নবজাতক মারা যায়, যার মধ্যে সর্বশেষ শিশুটি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে ভোররাতের দিকে। বর্তমানে একমাত্র জীবিত থাকা ছেলে শিশুটিকে হাসপাতালের নবজাতক ও শিশু ওয়ার্ডে অক্সিজেন দিয়ে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। মাত্র দেড় বছর আগে বিয়ে হওয়া এই দম্পতি চাঁদনীর গর্ভে পাঁচ সন্তান থাকার খবর পেয়ে অত্যন্ত আনন্দিত হলেও এই আকস্মিক ট্র্যাজেডিতে পরিবারজুড়ে এখন গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল