প্রিন্ট এর তারিখ : ০৩ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুলাই ২০২৬
কিয়েভে রাশিয়ার বছরের সবচেয়ে ভয়াবহ বিমান হামলা
শামিমা লিয়া, আন্তর্জাতিক ডেস্ক এডিটর ||
পাঁচ বছরে পদার্পণ করা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে বছরের সবচেয়ে বড় ও ভয়াবহ ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। গত বৃহস্পতিবার রাতভর চালানো এই নজিরবিহীন হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত এবং ৯১ জন আহত হয়েছেন। বছরের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী এই বিমান হামলায় কিয়েভের প্রায় ১৩০টি বহুতল ভবন ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ভয়াবহ এই হামলার পর কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো আজ শুক্রবার রাজধানীতে সরকারিভাবে শোক দিবস ঘোষণা করেছেন।ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া রাতভর একযোগে ৭৪টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং রেকর্ড ৪৯৬টি ড্রোন ছুড়েছে। বিমানবাহিনীর মুখপাত্র ইউরি ইহনাত বলেন, এবারের হামলায় ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেশি ছিল এবং মার্কিন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের তীব্র সংকটের কারণে তারা এই আকাশপথের আগ্রাসন পুরোপুরি প্রতিহত করতে হিমশিম খেয়েছেন। কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তৈমুর তকাচেঙ্কো জানান, উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে সারারাত তল্লাশি চালিয়েছেন এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ চাপা পড়ে থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।এই হামলায় রাজধানীর সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বড় ধরণের মানবিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিপর্যয় ঘটেছে। ইউক্রেনীয় রেড ক্রস জানিয়েছে, কিয়েভে তাদের প্রধান মানবিক সহায়তা পণ্যের গুদামটি রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে, যার ফলে জরুরি ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য মজুত রাখা প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার সামগ্রী পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। একই সাথে ইউক্রেনের চিকিৎসা ও জীববিজ্ঞানের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি 'ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োকেমিস্ট্রি'-র অত্যাধুনিক গবেষণাগারটি হামলায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। ইউক্রেনে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত ক্যাটারিনা ম্যাথারনোভা পরিস্থিতিকে 'নরক' আখ্যা দিয়ে জানান যে হামলায় কূটনৈতিক কর্মীদের ব্যবহৃত ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।কিয়েভে হামলার খবর পেয়ে আয়ারল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে তড়িঘড়ি দেশে ফিরেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। কিয়েভের ক্ষতিগ্রস্ত একটি ৯ তলা আবাসিক ভবন পরিদর্শনকালে তিনি পশ্চিমা মিত্রদের সময়মতো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ না করার জন্য তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। জেলেনস্কি বলেন, অংশীদাররা যদি সময়মতো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করত, তবে আজ এই প্রাণগুলো বাঁচানো সম্ভব হতো। তারা মিত্রদের কাছে বাড়তি কিছু চাইছেন না, কেবল চুক্তির শর্তানুযায়ী পূর্বনির্ধারিত প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে বলছেন। তিনি আরও জানান, আগামী সপ্তাহে তুরস্কে অনুষ্ঠেয় ন্যাটো সম্মেলনে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিষয়টিই হবে ইউক্রেনের প্রধান ইস্যু এবং সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর একটি বিশেষ বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে।এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই ব্যাপক হামলার দায় স্বীকার করেছে। ক্রেমলিনের দাবি, কিয়েভের সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনা এবং বিমানবন্দরগুলোকে লক্ষ্য করে দূরপাল্লার নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। ইউক্রেনের সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই ব্যবস্থা এবং যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জনে চাপ আরও বাড়ানো হবে বলে মস্কো জানিয়েছে।এই হামলার পর আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কিয়েভের প্রতিবেশী ও ন্যাটো সদস্য দেশ পোল্যান্ড তাদের আকাশসীমায় যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে এবং ফিনল্যান্ডও আকাশসীমায় সাময়িক বিধিনিষেধ জারি করেছে। ইইউ-র পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কায়া কালাস রাশিয়ার ওপর আরও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব দিয়েছেন এবং জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বেসামরিক নাগরিকদের ওপর এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল