প্রিন্ট এর তারিখ : ০৩ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬
ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিতে সংকটে ইমিগ্রেশন আইনজীবীরা
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের গৃহীত কঠোর অভিবাসন নীতি কেবল অভিবাসীদের জীবনকেই অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেনি, বরং দেশটির অভিবাসন আইন খাতেও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। দেশজুড়ে অভিবাসনবিরোধী অভিযান, ব্যাপক গ্রেফতার ও বহিষ্কার কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি নতুন নতুন বিধিনিষেধ আরোপের ফলে বহু ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নি ও আইন প্রতিষ্ঠান (ল ফার্ম) এখন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।সাম্প্রতিক মাসগুলোতে নতুন ক্লায়েন্টের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি আকারের ইমিগ্রেশন আইন ফার্মগুলো তীব্র ক্লায়েন্ট সংকটে ভুগছে। আইনজীবীদের তথ্যমতে, অনথিভুক্ত অভিবাসী এবং বিচারাধীন মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেক ব্যক্তি বর্তমানে আইনি পরামর্শ নিতে আইনজীবীর অফিসে যেতে ভয় পাচ্ছেন।আগে যারা নিয়মিত নাগরিকত্ব, গ্রিন কার্ড নবায়ন, আশ্রয় আবেদন কিংবা পরিবারভিত্তিক অভিবাসন প্রক্রিয়ার জন্য আইনি সহায়তা নিতেন, তাদের একটি বড় অংশ এখন ‘অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণ’ (ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ) নীতি অনুসরণ করছেন। কেউ কেউ তাঁদের চলমান মামলা বা আবেদন প্রক্রিয়া স্থগিত রেখেছেন, আবার অনেকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর ফলে আইনজীবীদের আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি পুরো খাতেই এক ধরণের স্থবিরতা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নীতিমালার কারণে আশ্রয় আবেদন, মানবিক প্যারোল, অস্থায়ী সুরক্ষিত মর্যাদা (টিপিএস), পরিবারভিত্তিক ভিসা এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসনসহ প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই এক ধরণের জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে নতুন আবেদনকারীর সংখ্যার ওপর।অনেক অ্যাটর্নি জানিয়েছেন, আগে যেসব মামলা ও আবেদন তাঁদের আয়ের প্রধান উৎস ছিল, এখন সেসব কেসের সংখ্যা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। অন্যদিকে, আদালতের জটিলতা এবং প্রশাসনিক বিলম্বের কারণে চলমান মামলাগুলোর নিষ্পত্তি দীর্ঘায়িত হওয়ায় আর্থিক চাপ আরও বাড়ছে। অনেক মামলার নিষ্পত্তিতে এখন বছরের পর বছর লেগে যাচ্ছে।বৃহৎ করপোরেট আইন প্রতিষ্ঠানগুলো বহুমুখী আইনি সেবা প্রদানের কারণে পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দিতে পারলেও, কমিউনিটি-ভিত্তিক ছোট ইমিগ্রেশন ফার্মগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, ফ্লোরিডা ও ইলিনয়ের মতো অভিবাসী অধ্যুষিত রাজ্যগুলোতে পরিস্থিতি এখন বেশ নাজুক। সেখানকার অনেক আইন ফার্ম বাধ্য হয়ে ব্যয় সংকোচনের জন্য কর্মী ছাঁটাই করছে, অফিসের পরিসর কমাচ্ছে এবং অনলাইনভিত্তিক সেবার ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে। কয়েকজন আইনজীবীর দাবি, গত এক বছরে তাঁদের আয় ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে।এদিকে, অভিবাসীদের জন্য বিনামূল্যে বা স্বল্প খরচে আইনি সহায়তা প্রদানকারী অলাভজনক সংস্থাগুলোও দ্বিমুখী চাপে রয়েছে। একদিকে আইনি সহায়তার প্রয়োজনীয়তা ব্যাপক হারে বাড়ছে, অন্যদিকে সরকারি অনুদান ও বেসরকারি অর্থায়নের অনিশ্চয়তায় তাদের কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে সীমিত জনবল নিয়ে বিপুলসংখ্যক অভিবাসীকে সেবা দিতে গিয়ে এসব প্রতিষ্ঠান হিমশিম খাচ্ছে।বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, আদালতে যথাযথ আইনি প্রতিনিধিত্ব বা আইনজীবীর সহায়তা ছাড়া হাজির হলে অভিবাসীদের দেশ থেকে বহিষ্কারের (ডিপোর্টেশন) ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। তবে আদালতের বর্তমান দীর্ঘসূত্রতা এবং মামলার বিশাল জট পরিস্থিতিকে দিন দিন আরও জটিল করে তুলছে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল