প্রিন্ট এর তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬
দৈনন্দিন জীবনকেও যেভাবে ইবাদতে পরিণত করবেন
মোঃ রফিকুল ইসলাম , স্টাফ রিপোর্টার ||
ইসলাম মানুষের সামগ্রিক জীবনযাত্রাকে একটি পূর্ণাঙ্গ ইবাদতে রূপান্তরের অনন্য সুযোগ দিয়েছে। কেবল নামাজ, রোজা, হজ কিংবা জাকাতের মতো নির্দিষ্ট কিছু ফরজ বিধানের মধ্যেই ইবাদতের পরিধি সীমাবদ্ধ নয়; বরং সঠিক নিয়ত এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্য থাকলে মানুষের প্রতিটি বৈধ কর্মই ইবাদতে পরিণত হতে পারে। ইসলামি পণ্ডিতদের মতে, সৃষ্টিকর্তার মহান আনুগত্য, বিনয় ও দাসত্ব প্রকাশের মাধ্যমে তাঁর পছন্দনীয় ও সন্তোষজনক প্রতিটি কাজই ইবাদতের অংশ। এটি শুধু শারীরিক কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং মন, মুখ, শরীর ও সম্পদের সমন্বিত সমর্পণ।ইসলামে ইবাদতের রূপ ও প্রকাশ অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। কখনো এটি প্রকাশ পায় অন্তরের গভীরতম অনুভূতিতে—যেমন আল্লাহর প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা, ভয়, আশা এবং একনিষ্ঠতা। কখনো এর বহিঃপ্রকাশ ঘটে জিহ্বায়—দোয়া, জিকির, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত এবং সত্যের আহ্বানের মাধ্যমে। আবার কখনো তা দেহের শ্রমে সার্থক হয়—যেমন নামাজে দাঁড়ানো, রুকু-সিজদা বা কাবা শরিফ তাওয়াফ করা।এর বাইরে অর্থনৈতিক ত্যাগের মাধ্যমেও ইবাদত সাধিত হয়, যার উৎকৃষ্ট উদাহরণ জাকাত, সাধারণ দান ও কোরবানি। আর ইসলামের সবচেয়ে বড় ইবাদত হলো হজ ও জিহাদ, যেখানে মানুষের দেহ, মন ও অর্থ—সবকিছুর সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ ও সমন্বয় প্রয়োজন হয়।সাধারণত কোনো ভালো কাজ করাকে ইবাদত মনে করা হলেও, ইসলাম বলে—সুযোগ থাকার পরও কোনো অন্যায় বা হারাম কাজ থেকে ‘বিরত থাকা’ও একটি বড় ইবাদত। লোকচক্ষুর আড়ালে আল্লাহর ভয়ে পাপ কাজ পরিহার করা সৃষ্টিকর্তার কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, যে ব্যক্তি গোপনে কোনো অসৎ সম্পর্কের আহ্বান পেয়েও স্রেফ আল্লাহর ভয়ে তা প্রত্যাখ্যান করে, কেয়ামতের কঠিন দিনে সে আল্লাহর আরশের বিশেষ ছায়া লাভ করবে।আজকের ডিজিটাল যুগে এই শিক্ষার প্রাসঙ্গিকতা আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে। মোবাইল ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে এখন গোপনে পাপের সুযোগ যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, ঠিক তেমনি ল্যাপটপ বা ফোনের স্ক্রিনে একা থাকার সময়েও আল্লাহর ভয়ে যেকোনো অশ্লীলতা বা হারাম এড়িয়ে চলাই প্রকৃত তাকওয়া বা খোদাভীতির পরিচয়।ইসলামের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হলো, এটি মানুষের স্বাভাবিক ও দৈনন্দিন জীবনকে বৈরাগ্যবাদের দিকে ঠেলে দেয় না। বরং একজন মানুষের ঘুম, আহার, হালাল উপার্জন, ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা সন্তান লালন-পালন—সবকিছুই যদি সৎ উদ্দেশ্যে ও আল্লাহর নির্দেশিত উপায়ে হয়, তবে তার প্রতিটি মুহূর্তই ইবাদত হিসেবে আমলনামায় যুক্ত হয়। এমনকি দাম্পত্য জীবনে স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক সঙ্গ ও সংসারের দেখভালও সওয়াবের কাজ। ফলে একজন মুমিনের জন্য কর্মক্ষেত্র, বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা পারিবারিক সংসার—সবকিছুই ইবাদতের এক একটি বিস্তৃত ময়দান।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল