প্রিন্ট এর তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬
কাতার বৈঠক ইতিবাচক, ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক খুবই ভালো: ট্রাম্প
শামিমা লিয়া, আন্তর্জাতিক ডেস্ক এডিটর ||
ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘদিনের চরম বৈরিতার বরফ গলতে শুরু করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বর্তমানে ইরানের সম্পর্ক ‘খুবই ভালো’ যাচ্ছে। একই সাথে কাতারে দুই দেশের মধ্যে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হওয়া কূটনৈতিক বৈঠকগুলো বেশ ‘ইতিবাচক’ হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যে গত কয়েক মাসের চরম উত্তেজনা ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় ধরণের মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, দোহার মধ্যস্থতায় হওয়া এই আলোচনা দুই দেশের দীর্ঘদিনের ভূ-রাজনৈতিক বিরোধ ও দ্বিপাক্ষিক সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য একটি কার্যকরী ও গঠনমূলক পথ তৈরি করেছে। কাতারের এই বৈঠকে ঠিক কী কী চুক্তি বা এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা হয়েছে—তার বিস্তারিত এখনই প্রকাশ করা না হলেও, ট্রাম্প প্রশাসন ইঙ্গিত দিয়েছে যে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক বাড়াতে দুই দেশই একটি সাধারণ ঐকমত্যে পৌঁছাতে পেরেছে।কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, চলতি বছরের শুরুর দিকে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে যে বিশাল পরিবর্তন ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তা শান্ত করতেই কাতারের মাটিতে এই উচ্চপর্যায়ের গোপন বৈঠকগুলোর আয়োজন করা হয়েছে। এই ইতিবাচক আলোচনার সূত্র ধরে আগামীতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও কমে আসতে পারে।প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই ইতিবাচক বক্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে, তিনি ইরানের ওপর আগের প্রথাগত ‘সর্বোচ্চ চাপ’ (Maximum Pressure) প্রয়োগের নীতি থেকে সরে এসে সরাসরি ‘লেনদেনভিত্তিক কূটনীতি’ (Transactional Diplomacy)-র দিকে হাঁটছেন। মধ্যপ্রাচ্যের জটিল সব সংকটের সমাধানে কাতারকে নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবহার করার কৌশল অতীতেও বেশ সফল প্রমাণিত হয়েছে। যদি এই আলোচনার সূত্র ধরে দুই দেশের সম্পর্ক আসলেই স্বাভাবিকের দিকে যায়, তবে তা বিশ্ব জ্বালানি বাজার থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের পুরো নিরাপত্তা ও ক্ষমতার সমীকরণকে আমূল বদলে দেবে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল