প্রিন্ট এর তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬
শায়খ আহমাদুল্লাহর নাম ভাঙিয়ে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৬
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত সামাজিক ও দাতব্য সংস্থা ‘আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন’-এর নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া এক প্রতারক চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রাজধানী ঢাকা, বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম এবং কুমিল্লায় একযোগে বিশেষ অভিযান চালিয়ে এই ভয়ঙ্কর প্রতারক চক্রটিকে আটক করা হয়।পুলিশের তদন্ত ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম (যেমন ফেসবুক, ইউটিউব) এবং বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের লোগো এবং শায়খ আহমাদুল্লাহর ছবি ও পরিচিতি ব্যবহার করে ভুয়া পেজ ও অ্যাকাউন্ট খুলেছিল। এরপর তারা কখনও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসহায় মানুষের উন্নত চিকিৎসা, কখনও এতিমখানা ও মাদ্রাসার উন্নয়ন, আবার কখনও দুস্থ পরিবারের পুনর্বাসনের ভুয়া ও আবেগঘন পোস্ট দিয়ে মানবিক আর্থিক সহায়তার আবেদন জানাত।তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, প্রতারকরা সম্পূর্ণ নিজেদের নিয়ন্ত্রিত বেশ কিছু ভুয়া মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, রকেট, নগদ) নম্বর এবং ভুয়া ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে এই অর্থ সংগ্রহ করে আসছিল। শায়খ আহমাদুল্লাহ এবং আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের দেশজোড়া আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা ও স্বচ্ছতার সুযোগ নিয়ে অনেক সাধারণ মানুষ মানবিক ও ধর্মীয় দায়বদ্ধতা থেকে এসব নম্বরে অকাতরে টাকা পাঠিয়েছেন। তবে সংগৃহীত এই বিপুল অর্থের কোনো অংশই কোনো দাতব্য কাজে ব্যবহার না করে, চক্রের সদস্যরা তা নিজেদের ব্যক্তিগত ভোগবিলাসে ব্যয় ও আত্মসাৎ করেছে।আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের নাম ব্যবহার করে এই বিপুল অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসার পর, পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট ও তথ্যপ্রযুক্তির বিশেষ সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর দেশের তিন জেলায় একযোগে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে এই চক্রের মূল হোতাসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামিদের বর্তমানে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং এই চক্রের পেছনে অন্য কোনো শক্তিশালী সিন্ডিকেট বা অর্থদাতা জড়িত আছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সাথে সাধারণ ধর্মপ্রাণ ও মানবিক নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে পুলিশ বলেছে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কোনো ভুয়া অ্যাকাউন্ট বা পেজে সাড়া না দিয়ে, যেকোনো ব্যক্তি বা সুপরিচিত প্রতিষ্ঠানের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ও ভেরিফাইড পেজ ভালোভাবে যাচাই-বাছাই না করে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা সাহায্য পাঠানো থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করা যাচ্ছে।আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের মতো একটি অত্যন্ত স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল চ্যারিটি সংস্থার নাম ব্যবহার করে এই ধরনের প্রতারণা অত্যন্ত জঘন্য এবং উদ্বেগজনক। আমাদের দেশের মানুষ স্বভাবসুলভভাবেই অত্যন্ত দানশীল ও ধর্মপ্রাণ, আর এই সরলতার সুযোগই নেয় সাইবার অপরাধীরা। যেকোনো দুর্যোগে বা দাতব্য কাজে অর্থ পাঠানোর আগে অবশ্যই সেই প্রতিষ্ঠানের ‘ব্লু ভেরিফাইড’ (Blue Verified) ফেসবুক পেজ বা তাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে দেওয়া নির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও মার্চেন্ট নম্বর মিলিয়ে নেওয়া উচিত। ডিজিটাল বাংলাদেশে এই ধরনের সাইবার অপরাধীদের কঠোর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে, সাধারণ মানুষ প্রকৃত অসহায়দের সাহায্য করার চ্যারিটি বা মানবিক উদ্যোগগুলোর ওপর থেকে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলবে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল