প্রিন্ট এর তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬
রাজধানীর যানজট নিরসনে রিং রোড ও বৈদ্যুতিক নৌপথ: প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
রাজধানীর দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত যানজট নিরসনে ঢাকার চারপাশের বৃত্তাকার সড়ক (ইনার সার্কুলার রিং রোড) এবং ১১০ কিলোমিটারের নৌপথের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিতে অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে উচ্চপর্যায়ের এক বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে. আজ বুধবার (১ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সড়ক ব্যবস্থাপনা বিষয়ক এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়. প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেসসচিব হাসান শিপলু গণমাধ্যমকে বৈঠকের সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।বৈঠকে ইনার সার্কুলার রিং রোড নির্মাণ প্রকল্পের সর্বশেষ অগ্রগতি ও কারিগরি দিক প্রধানমন্ত্রীর সামনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়. উপ-প্রেসসচিব জানান, ঢাকার এই ইনার সার্কুলার রিং রোডটি গাবতলী থেকে বাবু বাজার এবং পোস্তাগোলা থেকে ডেমরা পর্যন্ত বিস্তৃত হচ্ছে. ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মেগা প্রকল্পের রায়েরবাজার, হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীরচর অংশের নির্মাণ কাজ বর্তমানে পুরোদমে চলছে এবং ইতোমধ্যে এই পথের ৪৫ শতাংশ ভৌত কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।বৈঠকে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, এই বৃত্তাকার রিং রোডটির নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ শেষ হলে সিলেট, মাওয়া (পদ্মা সেতু) এবং চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে আসা যানবাহনগুলোকে দেশের অন্য প্রান্তে যেতে রাজধানীর ভেতরের মূল সড়কগুলো আর ব্যবহার করতে হবে না. দূরপাল্লার গাড়িগুলো ঢাকার বাইরে দিয়েই তাদের গন্তব্যে চলে যেতে পারবে, যার ফলে শহরের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোর ওপর যানবাহনের চাপ এক ধাক্কায় বহুগুণ কমে আসবে এবং চিরচেনা যানজট থেকে নগরবাসী মুক্তি পাবে।সড়কপথের পাশাপাশি ঢাকাকে ঘিরে থাকা ১১০ কিলোমিটারের বৃত্তাকার নদীপথটিকে সচল করার ওপর বৈঠকে বিশেষ জোর দেওয়া হয়. এই জলপথটি চালু করা গেলে নগরবাসী খুব সহজেই যানজট এড়িয়ে এক গন্তব্য থেকে অন্য গন্তব্যে যাতায়াত করতে পারবেন. বৈঠকে উপস্থিত কারিগরি বিশেষজ্ঞরা জানান, এই নদীপথে যেসব নৌযান বা ওয়াটার বাস চালানো হবে, সেগুলো হবে সম্পূর্ণ 'ইলেক্ট্রিক' বা বিদ্যুৎচালিত. ফলে এই নৌপথ চালু হলে ঢাকার পরিবেশ দূষণমুক্ত থাকবে, বিপুল পরিমাণ জ্বালানি সাশ্রয় হবে এবং যাত্রীদের যাতায়াতের সময়ও অনেক কম লাগবে।বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, স্থানীয় সরকার সচিব শহীদুল হাসান, সড়ক পরিবহন সচিব জিয়াউল হক, নৌ পরিবহন সচিব মো. জাকারিয়া, রেলপথ সচিব ফাহমিদুল ইসলাম, বিআইডব্লিউটিএ-র চেয়ারম্যান মুহিদুল ইসলাম, বুয়েটের অধ্যাপক খান মাহমুদ আমানত ও অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামানসহ ডিএসসিসি-র ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।ঢাকার যানজট নিরসনে রিং রোড এবং সার্কুলার নৌপথের এই পরিকল্পনাটি বছরের পর বছর ধরে কাগজে-কলমে থাকলেও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এর দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ অত্যন্ত ইতিবাচক। গাবতলী-বাবুবাজার-ডেমরা রুটের ৪৫% কাজ শেষ হওয়া ইঙ্গিত দেয় যে প্রকল্পটি এখন দৃশ্যমান রূপ নিচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকার চারপাশের নদীগুলোকে দখল-দূষণমুক্ত করে সেখানে আধুনিক ‘ইলেক্ট্রিক ওয়াটার বাস’ নামানোর আইডিয়াটি একাধারে পরিবেশবান্ধব এবং সময়োপযোগী। তবে অতীতে ওয়াটার বাস প্রকল্পগুলো সমন্বয়ের অভাব ও নাব্যতা সংকটের কারণে মুখ থুবড়ে পড়েছিল। এবার বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করে নদীপথের কারিগরি ত্রুটিগুলো দূর করে এবং নির্ধারিত সময়ে রিং রোডের কাজ শেষ করতে পারলে তা ঢাকার যাতায়াত ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী বিপ্লব ঘটাবে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল