প্রিন্ট এর তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬
ঢাকাকেন্দ্রিক আইসিইউ সুবিধা, ৩৮ জেলায় নেই আইসিইউ: জুবাইদা রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
রাজধানী ঢাকায় দেশের মোট জনসংখ্যার একটি ছোট অংশ বাস করলেও এখানকার হাসপাতালগুলোতে ক্রিটিক্যাল কেয়ার বা নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রের (আইসিইউ) সুবিধা প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ; যেখানে দেশের গ্রামীণ অঞ্চলগুলোতে এই জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা ব্যবস্থা একেবারেই অপ্রতুল। আজ বুধবার (১ জুলাই) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে ‘বাংলাদেশ সোসাইটি অব ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন’ আয়োজিত জাতীয় কনফারেন্সে সম্মানিত অতিথির বক্তৃতাকালে এই তথ্য তুলে ধরেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান।দেশের স্বাস্থ্য খাতের এই চরম আঞ্চলিক বৈষম্য ও শয্যা সংকটের চিত্র তুলে ধরে ডা. জুবাইদা বলেন, “পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে প্রতি এক লাখ মানুষের বিপরীতে ক্রিটিক্যাল কেয়ার বেড বা আইসিইউ শয্যা রয়েছে মাত্র ১.৭টি এবং সাধারণ হাসপাতাল শয্যা রয়েছে মাত্র ৯টি। আরও আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৩৮টি জেলাতেই বর্তমানে সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে কোনো ধরনের আইসিইউ সুবিধা নেই।”চিকিৎসার অভাবে প্রান্তিক মানুষের অসহায়ত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, জেলাগুলোতে আইসিইউ না থাকলে কেউ গুরুতর অসুস্থ হলে তাকে কীভাবে সর্বোচ্চ জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব? তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “নবজাতক শিশু, অন্তঃসত্ত্বা মা, নিউমোনিয়া বা স্ট্রোকে আক্রান্ত বয়োবৃদ্ধ, কিংবা সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত তরুণ—ক্রিটিক্যাল কেয়ার সুবিধার অভাবে এদের অনেককেই অত্যন্ত অকালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে হচ্ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।”তবে দেশের চিকিৎসকদের মেধা ও সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এই সংকটের উত্তরণ সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি উপস্থিত সুধীজন ও চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “নিঃসন্দেহে এই পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব। আমরা যদি সবাই মিলে সম্মিলিতভাবে সংকল্প গ্রহণ করি এবং গ্রামীণ স্বাস্থ্য কাঠামোর উন্নয়নে জোর দিই, তবে গুরুতর অসুস্থতার সময়ে স্রেফ আইসিইউ ও জরুরি চিকিৎসাসেবার অভাবে আর কোনো দেশবাসীকে অকালে প্রাণ হারাতে হবে না।”ডা. জুবাইদা রহমানের এই বক্তব্য বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের একটি অত্যন্ত নগ্ন ও বাস্তব চিত্রকে সামনে এনেছে। দেশের ৩৮টি জেলায় কোনো আইসিইউ না থাকা প্রমাণ করে যে আমাদের চিকিৎসাব্যবস্থা কতটা ঢাকাকেন্দ্রীক। কোনো মুমূর্ষু রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সে করে দূর-দূরান্ত থেকে ঢাকায় আনার পথেই অনেক সময় জীবনাবসান ঘটে। চীনের সহযোগিতায় দেশজুড়ে যে নতুন ২০টি বড় হাসপাতাল ও আইসিইউ শয্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে, তা যদি দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায়, তবেই ডা. জুবাইদা রহমানের আশঙ্কামুক্ত ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণ সম্ভব হবে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল