প্রিন্ট এর তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬
চিকিৎসকদের জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে বড় বাজেটও কাজে আসবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ইয়াসরির মাহবুব, স্টাফ রিপোর্টার ||
যতক্ষণ পর্যন্ত রোগীদের বিষয়ে চিকিৎসকদের নৈতিক অবস্থান ঠিক না হবে, তাঁরা রোগীদের সাথে ভালো ব্যবহার করবেন না এবং চিকিৎসকদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না যাবে—ততক্ষণ পর্যন্ত সরকারের কোনো বড় উদ্যোগ বা হাজার কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ দিয়েও তা জনগণের প্রকৃত কাজে আসবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন. আজ বুধবার (১ জুলাই) ‘বাংলাদেশ সোসাইটি অব ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন’ (বিএসসিসিএম) আয়োজিত এক জাতীয় কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে চিকিৎসকদের জবাবদিহিতা, নৈতিকতা ও মেডিকেল ইথিকস বা চিকিৎসা নীতিশাস্ত্র নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন. তিনি উল্লেখ করেন, পরম করুণাময় আল্লাহর পর সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ভরসা ও বিশ্বাস করে চিকিৎসকদের ওপর. সেই সুমহান আমানতের মর্যাদা রক্ষার্থে চিকিৎসকদের অবশ্যই রোগীদের প্রতি পেশাদার জবাবদিহিতা এবং সহানুভূতিশীল আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।একই সাথে চিকিৎসকদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে সরকারের নেওয়া বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী. তিনি জানান, চিকিৎসকদের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোতে আগামী মাস থেকে অস্ত্রসহ ১০ জন করে আনসার সদস্য নিয়োগ দেওয়া হবে. এছাড়া প্রান্তিক পর্যায়ে চিকিৎসকদের উৎসাহিত করতে থানা বা উপজেলা পর্যায়ে যাঁরা চিকিৎসা সেবা দেবেন, তাঁদের জন্য এবারের জাতীয় বাজেটে অতিরিক্ত ভাতা বরাদ্দ রাখা হয়েছে. দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে বিভিন্ন জেলা হাসপাতালে আইসিইউ (ICU) শয্যা বাড়ানোর কথাও উল্লেখ করেন তিনি।দেশের চিকিৎসা খাতের অবকাঠামোগত উন্নয়নে একটি মেগা প্রকল্পের ঘোষণা দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, বন্ধুপ্রতিম দেশ চীনের আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় দেশজুড়ে নতুন ২০টি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে. এই মহাপরিকল্পনার আওতায় ২টি হাসপাতাল হবে ১৫০০ শয্যা বিশিষ্ট সম্পূর্ণ বিশেষায়িত ‘নারী ও শিশু হাসপাতাল’ এবং অবশিষ্ট ১৮টি হাসপাতাল হবে ১ হাজার শয্যা বিশিষ্ট সাধারণ ও বিশেষায়িত হাসপাতাল।দেশের স্বাস্থ্য খাতের মানোন্নয়নে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য অত্যন্ত বাস্তবমুখী এবং প্রশংসনীয়। প্রায়শই সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীদের সাথে অবহেলা বা দুর্ব্যবহারের যে অভিযোগ ওঠে, তা কেবল বাজেট বাড়িয়ে বা অবকাঠামো উন্নত করে দূর করা সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন চিকিৎসকদের মানসিকতার পরিবর্তন ও পেশাগত নৈতিকতা। একই সাথে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে হাসপাতালগুলোতে সশস্ত্র আনসার মোতায়েন এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে ডিউটির জন্য অতিরিক্ত ভাতার ব্যবস্থা করা সরকারের একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত। চীনের সহযোগিতায় ২০টি বৃহৎ হাসপাতাল নির্মিত হলে দেশের সাধারণ মানুষের উন্নত চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ যেমন বাড়বে, তেমনি রাজধানীমুখী চিকিৎসা ব্যবস্থার চাপও অনেকখানি লাঘব হবে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল