প্রিন্ট এর তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬
হাসিনার বক্তব্য প্রচারে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা
সুমাইয়া জাবির , ন্যাশনাল ডেস্ক এডিটর ||
আদালতের সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও দেশের কিছু গণমাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য ও সাক্ষাৎকার প্রচারের বিষয়ে তীব্র আপত্তি ও উষ্মা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘এনডিটিভি’-তে দেওয়া শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারটি বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে হুবহু প্রচারের প্রেক্ষাপটে তিনি এই আহ্বান জানান।মঙ্গলবার (৩০ জুন) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের ব্রিফিংয়ে তথ্য উপদেষ্টা এই অবস্থান পরিষ্কার করেন। ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, “আদালতের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রচার করা কোনোভাবেই সমীচীন নয়। আমি দেশের সব গণমাধ্যমকে আদালতের আইনি নির্দেশনা এবং জাতীয় সংবেদনশীলতা বজায় রেখে এ ধরনের বক্তব্য প্রচার থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি।”সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের রাজনীতি ও কর্মসূচি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যতদিন পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ আদালতে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে, ততদিন তারা কোনো ধরনের সাংগঠনিক কর্মসূচি বা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। এ সময় তিনি গণমাধ্যম সংস্কারের বিষয়ে ঘোষণা দেন যে, খুব দ্রুত দেশে একটি শক্তিশালী ‘তথ্য কমিশন’ গঠন করা হবে এবং অংশীজনদের সাথে নতুন করে আলোচনার মাধ্যমে ‘গণমাধ্যম কমিশন’ পুনর্গঠন করা হবে।প্রধানমন্ত্রীর সদ্য সমাপ্ত চীন সফরকে ‘অত্যন্ত সফল’ উল্লেখ করে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সরকার নিজস্ব স্বাধীন নীতিতে অটল থেকে পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ করছে। বিশেষ করে বহুল আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে সরকার যে সিদ্ধান্তই নিক না কেন, তা দেশের শতভাগ স্বার্থ রক্ষা করেই নেওয়া হবে।তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, “তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনের দক্ষ জনবল ও প্রযুক্তি রয়েছে। তাই এই মেগা প্রজেক্টে চীনের সাথে কাজ করলে ভারতের সাথে সম্পর্ক খারাপ হওয়ার কোনো কারণ নেই। বাংলাদেশ পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রেখে ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য ঠিক রাখতে চায়। তিস্তার বিষয়ে সরকার কার সাথে চুক্তি করবে, তা সম্পূর্ণ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়, এখানে অন্য কোনো দেশের কনসার্ন বা শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।”এছাড়াও দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থে চায়না-মিয়ানমার-বাংলাদেশ সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বা করিডোর স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে বলেও তিনি জানান।সম্প্রতি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) একটি প্রতিবেদনে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির যে খতিয়ান এসেছে, সেটিকে স্বাগত জানিয়েছে সরকার। উপদেষ্টা বলেন, “রিপোর্ট প্রকাশ করা টিআইবির রুটিন কাজ। তবে এই প্রতিবেদনে শুধু কোনো নির্দিষ্ট সরকারের ভুল নয়, বরং প্রশাসনের গভীরে থাকা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির চিত্রও উঠে এসেছে। বর্তমান সরকার অবশ্যই এই অভিযোগগুলোর সুনির্দিষ্ট তদন্ত করবে। পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকার এবং আওয়ামী লীগ সরকারের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখছে।”ব্রিফিংয়ে তিনি আরও জানান, ভারত থেকে সম্প্রতি ১১৫ জন নাগরিককে বাংলাদেশে অবৈধ পুশইনের (অনুপ্রবেশ) চেষ্টা সফলভাবে রুখে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এই সাহসিকতা ও সতর্কতার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিজিবিকে আনুষ্ঠানিক ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। এছাড়া দেশের ১৫টি বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় বজ্রনিরোধক যন্ত্র ও বিশেষ আশ্রয় ছাউনি নির্মাণের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের নেওয়া নতুন প্রকল্পের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর এবং পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত নতুন সরকারের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ভারসাম্য ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং সেখান থেকে রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি স্পর্শকাতর ইস্যু। ইতিপূর্বে বাংলাদেশের আদালত দেশের অভ্যন্তরে তার যেকোনো ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য ও ঘৃণাভাষণ প্রচারে আইনি নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। একই সঙ্গে তিস্তা প্রকল্পে চীন বা ভারতের অর্থায়ন নিয়ে দীর্ঘদিনের যে আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন রয়েছে, তথ্য উপদেষ্টার আজকের এই খোলামেলা বক্তব্য বাংলাদেশের স্বাধীন ও সার্বভৌম পররাষ্ট্রনীতির এক দৃঢ় বার্তা হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল