প্রিন্ট এর তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬
চট্টগ্রাম বন্দর চ্যানেলে দুই জাহাজের সংঘর্ষ, পাথরবোঝাই লাইটার ডুবি
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
চট্টগ্রাম বন্দর চ্যানেলে দুটি লাইটার জাহাজের মধ্যে তীব্র মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ১ হাজার ২০০ টন পাথরবোঝাই ‘এমভি বে হারবার-২’ নামের একটি লাইটার জাহাজ সাগরে ডুবে গেছে। সোমবার (২৯ জুন) দিবাগত রাত ৩টার দিকে বন্দর চ্যানেলের ২ ও ৩ নম্বর বয়ার মাঝামাঝি এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। তবে কোস্ট গার্ড ও স্থানীয় জেলেদের তৎপরতায় জাহাজে থাকা ১২ জন নাবিককেই জীবিত ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।বন্দর ও কোস্ট গার্ডের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্রে জানা গেছে, রাতে নদী ও সাগরে আকস্মিক ঘন কুয়াশা তৈরি হলে দৃষ্টিসীমা বা ভিজিবিলিটি কমে যায়। এ সময় চট্টগ্রাম বন্দর চ্যানেল দিয়ে যাওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা অন্য একটি জাহাজের সঙ্গে ‘এমভি বে হারবার-২’-এর মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় পাথরবোঝাই জাহাজটির নিচের খোল ফেটে গিয়ে হু হু করে পানি ঢুকতে শুরু করে এবং মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে সেটি পুরোপুরি তলিয়ে যায়।জাহাজটি ডুবে যাওয়ার পর সেটিতে থাকা ১২ জন নাবিক গভীর রাতে উত্তাল সাগরে ভেসে যান। খবর পেয়ে কোস্ট গার্ড পূর্ব জোনের একটি চৌকস দল মেটাল শার্ক ও বিশেষ উদ্ধারকারী বোট নিয়ে দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে সমুদ্রের বুক থেকে ৮ জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করে।তবে সাগরে তীব্র স্রোত থাকায় বাকি ৪ জন নাবিক মূল দুর্ঘটনাস্থল থেকে ভেসে দূরবর্তী স্থানে চলে যান। পরবর্তী সময়ে দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় কয়েক কিলোমিটার দূরে আনোয়ারা উপজেলার পারকি সমুদ্রসৈকত এলাকায় তারা ভেসে উঠলে স্থানীয় জেলে ও সৈকতে থাকা সাধারণ মানুষ তাদের উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসেন।দুর্ঘটনার বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. নাছির উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, পাথরবোঝাই লাইটার জাহাজটি ডুবে গেলেও চট্টগ্রাম বন্দরের মূল সচল চ্যানেলে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। দুর্ঘটনাকবলিত নৌযানটি মূল চ্যানেল থেকে কিছুটা দূরে ডুবে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ কোনো বড় জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে না।বন্দর কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, নৌ-নিরাপত্তার স্বার্থে ওই রুটে চলাচলকারী সব নৌযানকে সাবধানে চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নৌ-দুর্ঘটনা এড়াতে দুর্ঘটনাস্থলে একটি ‘লাল সতর্কবার্তা বয়া’ বসানোর প্রক্রিয়া চলছে এবং ডুবে যাওয়া জাহাজটি উদ্ধারে পরবর্তী আইনি ও কারিগরি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে উদ্ধারকৃত সব নাবিক সুস্থ ও নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছেন।চট্টগ্রাম বন্দর চ্যানেল বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার। এই রুট দিয়ে প্রতিদিন শত শত লাইটার ও মাদার ভেসেল চলাচল করে। সাধারণত বর্ষা মৌসুমের শুরুতে এবং বৈরী আবহাওয়ায় বঙ্গোপসাগর ও কর্ণফুলী নদীর মোহনায় স্রোতের তীব্রতা ও আকস্মিক কুয়াশা বেড়ে যায়, যা নৌযান চলাচলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে চ্যানেলের বয়া এলাকায় লাইটার জাহাজের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ধরনের দুর্ঘটনা থেকে মূল চ্যানেলকে নিরাপদ রাখতে বন্দর কর্তৃপক্ষের সার্বক্ষণিক মনিটরিং এবং নৌযানগুলোর আধুনিক রাডার ব্যবস্থা ব্যবহার করা জরুরি বলে মনে করছেন নৌ-বিশেষজ্ঞরা।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল