প্রিন্ট এর তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬
টাইব্রেকার নাটকে ডাচদের বিদায় করে শেষ ষোলোয় মরক্কো
স্পোর্টস ডেস্ক ||
বিশ্বকাপ ফুটবলের নকআউট পর্বের আরেক রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে টাইব্রেকারে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে মরক্কো। মেক্সিকোর মনট্রে স্টেডিয়ামে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা ১-১ গোলে সমতায় থাকার পর পেনাল্টি শুটআউটে ৩-২ ব্যবধানে জয় পায় উত্তর আফ্রিকার দেশটি। আগামী ৪ জুলাই কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে কানাডার মুখোমুখি হবে মরক্কো।ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণে আধিপত্য দেখায় মরক্কো। পিএসজি তারকা আশরাফ হাকিমি ডান প্রান্ত দিয়ে একের পর এক আক্রমণ সাজিয়ে ডাচ রক্ষণভাগকে তটস্থ করে রাখেন। প্রথমার্ধে হাকিমির একটি জোরালো শট ডাচ গোলরক্ষক বার্ট ভারব্রুগেন কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন এবং ৫০ মিনিটের মাথায় তার আরেকটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে।পুরো ম্যাচ জুড়েই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে তীব্র শারীরিক লড়াই লক্ষ্য করা গেছে। জার্সি ছেঁড়া থেকে শুরু করে মাঠেই রক্ত ঝরতে দেখা গেছে দুই দলের ফুটবলারদের। রেফারি উইল্টন পেরেইরা সাম্পাইও ম্যাচটিকে বেশ কিছুটা শারীরিক সংঘাতের দিকেই ছেড়ে দিয়েছিলেন। তবে প্রথম এক ঘণ্টায় ডাচরা মাত্র একটি অন-টার্গেট শট নিতে সক্ষম হয়।ম্যাচের ধারার বিপরীতে ৭২ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে প্রথম গোলটি পায় নেদারল্যান্ডস। বদলি খেলোয়াড় উইট ওয়েগহোর্স্টের পাস থেকে ক্রিসেনসিও সামারভিল বল নিয়ে বক্সে ঢোকার সময় ফাউলের শিকার হলেও বল চলে যায় কোডি গাকপোর পায়ে। লিভারপুলের এই তারকা নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ডাচদের ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন। গোল করার পরপরই কান্নায় ভেঙে পড়েন গাকপো। ম্যাচের আগেই তিনি জানিয়েছিলেন, বিশ্বকাপ চলাকালীন তার স্ত্রী সন্তানসম্ভবা অবস্থায় গর্ভপাতের শিকার হয়েছেন। সেই কষ্টের মুহূর্তে পুরো দল গাকপোকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা জানায়।১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালাতে থাকে মরক্কো। অবশেষে নির্ধারিত সময়ের ঠিক শেষ মিনিটে (৯০ মিনিটে) সমতা ফেরায় তারা। শেমশাদিন তালবির চমৎকার ক্রস থেকে ডিফেন্ডার ইসা দিওপের বুলেট গতির হেড ডাচ গোলরক্ষককে পরাস্ত করলে ১-১ সমতায় ফেরে মরক্কো। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে।অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা সেভটি করেন ডাচ গোলরক্ষক ভারব্রুগেন। মরক্কোর সুফিয়ান রাহিমী একা গোলরক্ষককে পেয়েও শট নিলে তা অসাধারণ দক্ষতায় হাত ও পা দিয়ে ফিরিয়ে দেন তিনি। এরপর দুই দলই কিছুটা রক্ষণাত্মক হয়ে পড়লে ম্যাচ টাইব্রেকারে রূপ নেয়।টাইব্রেকারে ডাচদের হয়ে প্রথম শটে টুন কুপমেইনার্স গোল করলেও মরক্কোর নীল এল আইনাউই পোস্টে মারেন। পরের শটে ডাচদের জাস্টিন ক্লুইভার্টও পোস্টে মারলে মরক্কো সমতায় ফেরা সুযোগ পায়। এরপরের শটগুলোতে ডাচদের উইট ওয়েগহোর্স্ট এবং মরক্কোর তালবি গোল করলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ২-২। ডাচদের চতুর্থ শটটি কুইন্টেন টিম্বার পোস্টের বাইরে মারলেও মরক্কোর আশরাফ হাকিমিও বারে মেরে সুযোগ হাতছাড়া করেন।পঞ্চম শটে ডাচদের সামারভিলের শট চমৎকারভাবে ডান হাত বাড়িয়ে রুখে দেন মরক্কোর অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। শেষ পেনাল্টিতে গোল করলেই জয়—এমন সমীকরণে মরক্কোর ইসমাইল সাইবারি বল জালে জড়িয়ে দলকে ঐতিহাসিক জয় এনে দেন।কাতার বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে খেলে ইতিহাস গড়া ‘অ্যাটলাস লায়ন্স’ খ্যাত মরক্কো এই জয়ের মাধ্যমে আবারও প্রমাণ করল কেন তারা বিশ্বমঞ্চের অন্যতম সমীহ জাগানো দল। বিশেষ করে এক গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও ম্যাচের শেষ মিনিটে গোল পরিশোধ করার মানসিকতা তাদের লড়াকু রূপকে ফুটিয়ে তোলে। অন্যদিকে প্রথমার্ধে রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলা নেদারল্যান্ডস টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে এসে টাইব্রেকার ভাগ্যের কাছে হেরে বিদায় নিল।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল