প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নৌকা চালানো সেই প্রধান শিক্ষকের স্কুল জাতীয়করণ
সুমাইয়া জাবির , ন্যাশনাল ডেস্ক এডিটর ||
বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের ‘তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়’ দ্রুত জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন. রোববার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বাজেট আলোচনা চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে পাওয়া এক বিশেষ নির্দেশনার প্রেক্ষিতে তিনি এই ঘোষণা দেন. সংসদে একটি স্লিপের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা পাঠান এবং শিক্ষামন্ত্রী তা নিশ্চিত করে জানান যে, বিদ্যালয়টি শিগগিরই সরকারি রূপ লাভ করবে।এই বিশেষ সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেনের এক অনন্য ও মানবিক লড়াইয়ের গল্প. দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত এই স্কুলটিতে বর্তমানে ৫৬ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে, তবে অধিকাংশ পরিবার চরম দরিদ্র হওয়ায় তারা নিয়মিত স্কুলের বেতন পরিশোধ করতে পারে না. ফলে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।বিদ্যালয়টি টিকিয়ে রাখতে এবং সহকর্মীদের আর্থিক সংকট দূর করতে ছুটির দিনগুলোতে সাঙ্গু নদীতে ইঞ্জিনচালিত নৌকা চালানো শুরু করেন প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেন. শুধু মার্চ ও এপ্রিল মাসেই নৌকা চালিয়ে তিনি ৪০ হাজার টাকা আয় করেন, যার মধ্যে ৩০ হাজার টাকাই তিনি নিজের পকেটে না রেখে সহকর্মীদের বেতন বাবদ বিলিয়ে দেন।প্রধান শিক্ষকের এই অনুপ্রেরণাদায়ী ত্যাগের খবরটি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে আসে. বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসার পর তিনি গভীর রাতেই শিক্ষামন্ত্রীকে স্কুলটি জাতীয়করণের জন্য প্রয়োজনীয় ও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন. প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, যেখানে দুর্গম পাহাড়ে শিক্ষা আলো ছড়ানোই এক মস্ত বড় চ্যালেঞ্জ, সেখানে এই প্রধান শিক্ষকের উদ্যোগ সবার জন্য একটি অনন্য দৃষ্টান্ত।২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত তিন্দু নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়টি বান্দরবানের থানচির মতো একটি চরম দুর্গম ও অনগ্রসর এলাকায় অবহেলিত শিশুদের শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসছিল. তবে প্রাতিষ্ঠানিক অনুদান বা সরকারি কোনো তহবিল না থাকায় বিদ্যালয়টির অস্তিত্ব বিলীন হওয়ার পথে বসেছিল. প্রধান শিক্ষকের নিজের শ্রম দিয়ে স্কুল বাঁচিয়ে রাখার এই বিরল ঘটনাটি দেশের শিক্ষা খাতে এক নতুন মানবিক অধ্যায়ের সূচনা করল। সরকারের এই দ্রুত ও সংবেদনশীল সিদ্ধান্তের ফলে কেবল একটি স্কুলই রক্ষা পেল না, বরং পার্বত্য অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ভবিষ্যৎও চিরতরে সুরক্ষিত হলো।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল