প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ আহত অন্তত পঞ্চাশ
মোঃ রফিকুল ইসলাম , স্টাফ রিপোর্টার ||
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার এবং বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে এক ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার সকাল ৮টা থেকে দুপুর পর্যন্ত দফায় দফায় চলা এই সহিংসতায় পুলিশ ও গণমাধ্যমকর্মীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। চার ঘণ্টাব্যাপী চলা এই রণক্ষেত্রের কারণে ফরিদপুর-ভাঙ্গা মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে তীব্র গরমে চরম ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো সাধারণ যাত্রী।স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ডের একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা এবং মাদকের বিরুদ্ধে একটি স্থানীয় কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে মানিকদহ ইউনিয়নের সুলতান মাতুব্বর এবং হামিরদী ইউনিয়নের (মহেশ্বরদী) সিরু মোল্লার সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে রোববার সকালে পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় উভয় পক্ষের শত শত মানুষ লাঠি, সড়কি, ঢাল, তলোয়ারসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই তাণ্ডবের কারণে ফরিদপুর-ভাঙ্গা মহাসড়কের উভয় পাশে কয়েক শ যানবাহন আটকা পড়ে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভাঙ্গা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। তবে সংঘর্ষকারীদের চরম সহিংস আচরণের কারণে একপর্যায়ে পুলিশকে একাধিক টিয়ারশেল (কাঁদুনে গ্যাস) নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে হয়। পরবর্তীতে ফরিদপুর জেলা সদর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এসে দীর্ঘ চেষ্টার পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে নতুন করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা সহিংসতা এড়াতে পুরো পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ড ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং জড়িতদের চিহ্নিত করতে পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে।ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আঞ্চলিক রাজনীতি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। এই স্ট্যান্ডের চাঁদা আদায়, পরিবহন নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকবিরোধী কমিটির নামে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা স্থানীয় ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে প্রায়ই কোন্দলের সৃষ্টি করে। এর আগেও এই অঞ্চলে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বড় ধরনের দাঙ্গা বা সংঘর্ষের ইতিহাস রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারির অভাবেই এই ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পুনরাবৃত্তি ঘটছে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল