প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুন ২০২৬
১ ন্যানোমিটারের চেয়েও ছোট চিপ তৈরির দাবি আইবিএমের: প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
বিশ্বখ্যাত মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইবিএম (IBM) চিপ বা সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তিতে এক যুগান্তকারী ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তারা ১ ন্যানোমিটারের চেয়েও ক্ষুদ্র (০.৭ ন্যানোমিটার বা ৭-অ্যাংস্ট্রম) ট্রানজিস্টরসমৃদ্ধ চিপ তৈরির গৌরব অর্জন করেছে। নতুন উদ্ভাবিত ‘ন্যানোস্ট্যাক’ (NanoStack) আর্কিটেকচারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই চিপ আগামী দিনের সুপারকম্পিউটিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং দৈনন্দিন স্মার্টফোন প্রযুক্তির কার্যসক্ষমতা ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের চেনা সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে দেবে।আইবিএম ২০২১ সালে তাদের ২-ন্যানোমিটার চিপে ‘ন্যানোশিট’ (NanoSheet) ট্রানজিস্টর প্রযুক্তি ব্যবহার করে চমক দেখিয়েছিল, আর এবার সেই প্রযুক্তিতেই আরও এক ধাপ এগিয়ে তারা তৈরি করেছে ‘ন্যানোস্ট্যাক’। এই নতুন প্রযুক্তিতে ত্রিমাত্রিক বা লম্বালম্বি বিন্যাস ব্যবহার করা হয়েছে; অর্থাৎ, আগে ট্রানজিস্টরগুলো চিপের ওপর পাশাপাশি বসানো হলেও, ন্যানোস্ট্যাক প্রযুক্তিতে সেগুলোকে একটির ওপর আরেকটি লম্বালম্বিভাবে (Vertically) নিখুঁতভাবে স্তরে স্তরে সাজানো হয়েছে। এই চিপের প্রতিটি ট্রানজিস্টর তিনটি ন্যানোশিট উপাদান দিয়ে তৈরি, যেখানে প্রতিটি ন্যানোশিট মাত্র ৫ ন্যানোমিটার পুরু এবং এরা সিলিকন পরমাণুর মাত্র ১৫টি সারি দিয়ে গঠিত। একই সাথে, এই প্রযুক্তিতে দুটি ট্রানজিস্টরের মধ্যকার দূরত্ব রাখা হয়েছে মাত্র ৯ ন্যানোমিটার।চিপের ভেতরে ট্রানজিস্টরের সংখ্যা যত বেশি হয়, চিপের ডেটা প্রসেসিং ক্ষমতা তত দ্রুত হয়। আইবিএম-এর নতুন ০.৭ ন্যানোমিটার ডিজাইনের চিপটিতে আগের ২-ন্যানোমিটার চিপের চেয়ে দ্বিগুণ ঘনত্ব রয়েছে। এর ফলে মানুষের একটি সাধারণ নখের সমান ক্ষুদ্র জায়গায় প্রায় ১০ হাজার কোটি (১০০ বিলিয়ন) ট্রানজিস্টর বসানো সম্ভব হয়েছে।আইবিএম-এর দাবি অনুযায়ী, এই বিপুল পরিমাণ ট্রানজিস্টরের সমন্বয়ে তৈরি নতুন চিপটি বর্তমানের সবচেয়ে উন্নত ২-ন্যানোমিটার চিপের তুলনায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি কার্যসক্ষমতা বা প্রসেসিং স্পিড দেবে এবং একই সাথে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয় করবে।আইবিএম রিসার্চ-এর পরিচালক জে গ্যাম্বেটা বলেন, “এই নতুন আর্কিটেকচার চিপ জগতকে এমন এক ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাবে, যেখানে অতিরিক্ত শক্তির ব্যবহার বা ব্যাটারি খরচ না বাড়িয়েই কম্পিউটিং সক্ষমতাকে বহুগুণ শক্তিশালী করা সম্ভব।” এর ফলে ভবিষ্যতের স্মার্টফোনগুলোর ব্যাটারি লাইফ কয়েক গুণ বেড়ে যাবে এবং ডেটা সেন্টারের কার্বন নির্গমন নাটকীয়ভাবে কমে আসবে।গবেষণাগারে সফল পরীক্ষা হলেও এই চিপ বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপক উৎপাদনে (Mass Production) যেতে আইবিএম-এর অনুমান অনুযায়ী আরও প্রায় পাঁচ বছর (২০৩১ সাল নাগাদ) সময় লাগবে।উল্লেখ্য, জাপানি চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘র্যাপিডাস’ (Rapidus) ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ ২-ন্যানোমিটার চিপের বাণিজ্যিক উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে, যাদের সঙ্গে আইবিএম-এর প্রযুক্তিগত পার্টনারশিপ রয়েছে। সেই তুলনায় আইবিএম-এর এই ১-ন্যানোমিটারের নিচের চিপের বাজারে আসার সময়সীমা কিছুটা দীর্ঘ মনে হলেও, এটি চিপ নির্মাতাদের জন্য আগামী অন্তত এক দশকের অগ্রগতির ব্লুপ্রিন্ট বা নকশা তৈরি করে দিল।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল